
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরায় কর্মরত একজন গণমাধ্যমকর্মীর সাজানো সংসার ভাঙতে এক ভয়াবহ ব্ল্যাকমেইলিং ও চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে। শুধু সংসার ভাঙাই নয়, ওই সাংবাদিককে পার্লারের ভেতর অবরুদ্ধ করে নৃশংস হামলা এবং তার একমাত্র কন্যাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় দৈনিক ‘সরেজমিন বার্তা’ এবং ‘মানবাধিকার প্রতিদিন’ পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার কাটিয়া আমতলার ‘গ্ল্যামার বিউটি পার্লার’-এর স্বত্বাধিকারী মোসাম্মাৎ মুন্নী রহমানের সাথে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মোস্তাফিজুর রহমানের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে বিগত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে তারা আগের ঘরের এক শিশু সন্তানসহ অত্যন্ত সুখে-শান্তিতে সংসার পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মুন্নী রহমানের সাবেক স্বামী আরিফুর রহমান জেমস এবং কুষ্টিয়া সদরে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পলাতক থাকা একাধিক মামলার আসামি আনিস বিশ্বাস নামের এক কুচক্রী ব্যক্তি এই সংসার ভাঙার মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মাঠে নামে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমানের পেশাগত ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে জেমস ও আনিস বিশ্বাস তার স্ত্রীর সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে। তারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াতে থাকে। একপর্যায়ে উভয়ের মোবাইল নম্বর ব্লক করিয়ে দিয়ে চরম মানসিক দূরত্ব তৈরি করা হয়। এই সুনিপুণ ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ফাঁদে ফেলে গত সপ্তাহে মুন্নী রহমানকে দিয়ে একটি তালাকনামা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠাতে বাধ্য করা হয়, যা এখনো ভুক্তভোগী স্বামী গ্রহণ করেননি।
গত ২০ মে (গতকাল) সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান কাটিয়া আমতলাসদরের গ্ল্যামার বিউটি পার্লারে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও মালামাল আনতে যান। তিনি সেখানে পৌঁছামাত্রই তার বর্তমান স্ত্রী মুন্নী রহমান গোপনে সাবেক স্বামী জেমসকে ডেকে আনেন। জেমস পার্লারের ভেতরে প্রবেশ করেই স্ত্রী মুন্নী, কন্যা জেমি এবং পার্লারের কর্মচারী মেরীর সামনেই সাংবাদিক মোস্তাফিজুরের ওপর দুই দফায় নৃশংস হামলা চালায়। শুধু তাই নয়, তার ব্যবহৃত পোশাক ও জিনিসপত্র ঘরের বাইরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মালামাল পরিবহনের ভ্যানচালকসহ স্থানীয় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, এই চক্রটি এখানেই ক্ষান্ত হয়নি। বর্তমান স্ত্রী মুন্নী রহমান তার নিজস্ব লোকবল দিয়ে মোস্তাফিজুরের একমাত্র কন্যাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ (রেপ) করানোর জঘন্য হুমকি প্রদানসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, যার কল রেকর্ড ভুক্তভোগীর নিকট সংরক্ষিত আছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন,
“বিগত সাড়ে পাঁচ বছরে স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানকে নিজের করে নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে সংসার করেছি। এই সময়ে আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে এবং আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে জীবন থেকে ৫টি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এই গণমাধ্যমকর্মী এখনো তার ভাঙন ধরা সংসারটি টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী হলেও, অপরাধী চক্রের অব্যাহত হুমকির মুখে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনায় বিশ্বাসঘাতক স্ত্রী মুন্নী রহমান, তার সাবেক স্বামী আরিফুর রহমান জেমস এবং মূল পরিকল্পনাকারী আনিস বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের ধারায় কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।