সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পুনরায় যোগদান করলেন কর্মদক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউনুস আলী রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং এর আয়োজনে ২৬তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল ৭৫টি সেলাই নিয়েও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, ৩০ দিনেও ধরা পড়েনি  আসামি পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেপ্তার! ট্রাস্কফোর্স অভিযানে একাধিক মামলার আসামি নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার; ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার মাদকবিরোধী অভিযানে সোচ্চার হয়ে সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে চাই তালার ৪ নং কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন। নবাগত পুলিশ সুপার আশিস বিন হাছান: ঝিনাইদহকে  শান্ত ও মাদকমুক্ত জনপদ গড়ার প্রত্যয়  ফকিরহাটে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পথচারী নিহত কলারোয়ায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে লাখ লাক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সীমাহীন ভোগান্তিতে শ্যামনগরের প্রান্তিক মানুষ জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে চাকা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৮৯ বার পড়া হয়েছে

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান।

 

দেশের অধিকাংশ জেলায় জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে এলেও ব্যতিক্রম চিত্র সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। দেশের বৃহত্তম এই উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও অপর্যাপ্ত সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর ও মোটরসাইকেল শ্রমিকদের জীবিকা এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে।

ভৌগোলিক আয়তনে দেশের অন্যতম বড় উপজেলা শ্যামনগর। বিশাল এই জনপদে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কয়েক হাজার মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত যান চলাচল করলেও পুরো উপজেলায় ফিলিং স্টেশন রয়েছে মাত্র চারটি। দূর-দূরান্তের ইউনিয়নগুলো থেকে নদী ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে তেল নিতে আসা গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি।সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল। দিন এনে দিন খাওয়া মোটরসাইকেল চালকদের আর্তনাদ এখন আকাশছোঁয়া।

ভুক্তভোগী এক শ্রমিক বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো তেল পাইনি। তেলের জন্য অর্ধেক দিন নষ্ট হলে আমরা খাবো কী? ট্রিপ মারার সময়টুকু পাম্পেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।” অনেক ক্ষেত্রে নদীপথ পাড়ি দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ গ্রাহকরা।

বিদ্যমান সংকট নিরসনে স্থানীয় সচেতন মহল ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো থেকে বিকল্প প্রস্তাব উঠে এসেছে। তাদের দাবি, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে এবং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির বৈধ ব্যবস্থা চালু করা হোক। এতে পাম্পগুলোর ওপর যেমন চাপ কমবে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

উপজেলার সার্বিক অর্থনীতি ও জনজীবন সচল রাখতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন শ্যামনগরবাসী। একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা ও জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই এই স্থবিরতা কাটানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরের সর্বস্তরের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—জ্বালানি তেলের এই দুঃসহ ভোগান্তি থেকে দ্রুত মুক্তি। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই উপকূলীয় জনপদের শ্রমজীবী মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews