
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের তুজলপুর গোবিন্দ চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির ভয়াবহ অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই শিক্ষকের একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর হয়েও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কীভাবে এমন আপত্তিকর কাজে লিপ্ত হতে পারেন, তা ভাবতেই সবাই শিউরে উঠছেন। ফাঁস হওয়া ভিডিও ও অডিও ক্লিপগুলো এখন সাধারণ মানুষের স্মার্টফোনে ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, “যেখানে শিক্ষকের কাছে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ থাকার কথা, সেখানে এমন চারিত্রিক স্খলন ঘটলে আমরা আমাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাব কোন ভরসায়?”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শুধু নৈতিক অবক্ষয়ই নয়, বরং বিশাল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার নাম করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এই নিয়োগ বাণিজ্যের টাকায় তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি এবং বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের তথ্যও সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সমস্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী অশুভ শক্তিকে ম্যানেজ করে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, তারা এই “ছদ্মবেশী” শিক্ষকের কঠোর শাস্তি চায়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই শিক্ষককে দ্রুত পদত্যাগ করিয়ে আইনের আওতায় না আনলে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়বে। মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস না পেলেও, পর্দার আড়ালে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে তুজলপুরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোতে।
একজন শিক্ষক হয়ে আদর্শচ্যুত হওয়ার এই ঘটনায় সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে উচ্চতর তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।