রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে যখন উত্তাল সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, তখনই ভাইরাল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কথিত ইয়াবা সেবনের ভিডিও! জনমনে তীব্র ক্ষোভ শ্যামনগরে মা’য়ের দাঁত ভাঙলো ছেলে শ্যামনগরে যৌতুকলোভী আজিজুল হক আকাশ গ্রেফতার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউপি নির্বাচন: দলীয় প্রতীক না থাকায় বাড়ছে প্রার্থীর ভিড়, মাঠে নামছেন এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী ফরিদপুরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে বিএমডিএ চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে ইউএনওর উপস্থিতিতে এনজিও কার্যক্রম ও সীমান্ত উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়, ঝিমংখালী বিজিবি ক্যাম্প পরিদর্শন ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক রোহিঙ্গা আসামি আইয়ুব আলী র‍্যাব-১৫-এর হাতে গ্রেপ্তার উন্নয়নের সুবিধা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না”, অভয়নগরে এডিবি’র উন্নয়ন বরাদ্দ বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি গোলাম রসুল চুকনগরে মাদক, অনলাইন জুয়া ও দুর্নীতি নির্মূলের দাবিতে মানববন্ধন ফরিদপুরে আলী আছগার এমপির অর্থায়নে কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন ও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

অনুসন্ধান-২য়, আশাশুনিতে ‘রহিম বাহিনী’র অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এএসআই রোমান ও প্রভাবশালী চক্রের দৌড়ঝাঁপ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ‘রহিম বাহিনী’র হাতে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ ও নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত নিয়ে চরম নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী শাহাবাজ শেখকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের খবর ‘দৈনিক যশোর বার্তা’ ও ‘সাতক্ষীরা দিগন্ত’ সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর টনক নড়লেও, বর্তমানে তদন্তের নামে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিএসবি’র এএসআই রোমানের বিরুদ্ধে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার আরিফিন জুয়েল এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পড়ে আশাশুনি অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ডিএসবি’র এএসআই রোমানের ওপর। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করতে মাঠে নেমেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এএসআই রোমান বুধহাটার বিভিন্ন দোকানে ও আড্ডায় দম্ভোক্তি করে বেড়াচ্ছেন— “এই তদন্তে কিছুই হইবে না, রিপোর্ট তো আমি দেবো।” তদন্ত কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য বক্তব্যে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

 

অভিযুক্ত এসআই আব্দুর রহিম ও কনস্টেবল আসাদকে বাঁচাতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বর্তমানে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এএসআই রোমান ওই প্রভাবশালী চক্রের সাথে যোগসাজশ করে বাদীপক্ষকে (শাহাবাজ শেখ) আপোষ বা মীমাংসা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি যারা এই চুরান্ত দুর্নীতির তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করেছেন, সেইসব স্থানীয়দের ও সাংবাদিকদের ফাঁসানোর জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী শাহাবাজ শেখের দাবি, তার কাছে নির্যাতনের কল রেকর্ড, ভিডিও বার্তা এবং মুক্তিপণের টাকা প্রদানের বিকাশের সুনির্দিষ্ট তথ্য (ট্রানজ্যাকশন আইডি ও দোকানের নাম) রয়েছে। ২ লক্ষ ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছে, তার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কর্মকর্তা রোমান সেগুলোকে আমলে না নিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।

 

বুধহাটা বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুলিশের একটি অংশ যদি অপরাধীদের বাঁচানোর দায়িত্ব নেয়, তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে? এএসআই রোমান ও ‘রহিম বাহিনী’র এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এই অঞ্চলে পুলিশের ভাবমূর্তি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

 

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরিফিন জুয়েল ইতোমধ্যেই আশ্বস্ত করেছেন যে, সঠিক তথ্য পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাঠ পর্যায়ে ডিএসবি’র তদন্ত কর্মকর্তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এসপি’র সেই প্রতিশ্রুতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন।

ভুক্তভোগী শাহাবাজ শেখ ও তার পরিবার এখন সুষ্ঠু বিচার এবং জীবনের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews