
বিশেষ প্রতিনিধি :
আর্থিক দৈন্য ও প্রতিকূলতা যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য- তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে খুলনার পাইকগাছার মেয়ে মারজানা জামান। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে এই মেধাবী শিক্ষার্থী। পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে ১,২৫০ নম্বরের মধ্যে ১,১৮৮ নম্বর পেয়ে ‘গোল্ডেন এ+’ অর্জন করেছে সে। তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য-একজন সফল প্রকৌশলী হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করা। প্রতিভাবান মারজানা উপজেলার বিরাশী গ্রামের ব্যবসায়ী মোঃ মনিরুজ্জামান শান্ত ও গৃহিণী আয়শা সিদ্দীকার একমাত্র সন্তান। তার প্রয়াত দাদা মোক্তার আলী গাজী ছিলেন উপজেলার পাতড়াবুনিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রধান শিক্ষক। গ্রামের বাড়ি বিরাশীতে হলেও মেয়ের পড়াশোনার সুবিধার কথা ভেবে পরিবারটি বর্তমানে পাইকগাছা পৌরসভার সরল ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। শত টানাটানির মধ্যেও বাবা-মা মেয়ের পড়াশোনায় কখনো ঘাটতি আসতে দেননি। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিটি বিষযেই সর্বোচ্চ গ্রেড (এ+) অর্জন করেছে মারজানা। তার এই ফলাফলে পরিবার, শিক্ষকমণ্ডলী ও পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের হাওয়া। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছেলেবেলা থেকেই মারজানা ছিল অত্যন্ত অধ্যবসায়ী ও নিয়মনিষ্ঠ। অহেতুক সময় নষ্ট না করে নির্ধারিত রুটিন মেনে পড়ার টেবিলে বসত সে। পাশাপাশি বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করত। নিজের অনুভূতি জানিয়ে মারজানা জামান বলে, “এমন রেজাল্ট করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমার এই অর্জনের পেছনে মা-বাবা ও শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে। তাঁরা সবসময় আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার ইচ্ছা, ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিদ্যায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হওয়া এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করা। এই স্বপ্ন পূরণে আমি সবার কাছে দোয়া চাই।”মেয়ের অসামান্য অর্জনে আবেগাপ্লুত বাবা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “মারজানাই আমাদের একমাত্র আশা। অভাব-অনটনের মধ্যেও আমরা চেষ্টা করেছি তার পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়। সে ছোটবেলা থেকেই পড়ার প্রতি অনুরাগী। মেয়েটা যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সে জন্য অভিভাবক হিসেবে আমরা সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাব।” পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল ওহাব সহ শিক্ষকমণ্ডলী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা জানান, মারজানার এই সাফল্য অঞ্চলের অন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের পরামর্শ এবং পরিবারের সহযোগিতায় যে বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব, মারজানা তারই বড় প্রমাণ। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছাবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।