
আব্দুল গফুর বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য শিশু সুরক্ষা, ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এবং শিশুবান্ধব বিচার প্রক্রিয়া বিষয়ক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ রবিবার সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)-এর উদ্যোগে এবং ফ্রি এ গার্ল নেদারল্যান্ড ও জিম্যানের আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় জেলার নারী ও শিশু বিষয়ক হেল্প ডেস্কের নারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল যৌন শোষণ ও নির্যাতন-সংক্রান্ত (এসইসি) ঘটনা তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, ভুক্তভোগী শিশু ও নারীদের ট্রমা ও মানসিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং শিশুবান্ধব বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ মানবিক ও সংবেদনশীল আচরণ প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়াকে আরও শিশুবান্ধব করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার সাওন রেজা, এসিডির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এস.এম. আহসান উল্লাহ সরকার এবং এরিয়া ম্যানেজার কৃষ্ণা রানী বিশ্বাস।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় যৌন শোষণ ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের বিভিন্ন কৌশল, ভুক্তভোগীর মানসিক ট্রমা ও ভিক্টিমহুড মোকাবিলা, শিশুর প্রতি সংবেদনশীল আচরণ এবং সাক্ষ্য গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, শিশুবান্ধব আদালত কক্ষ ও আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা, সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা দানে আরও বেশি তৎপর হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ধরনের উদ্যোগ সাতক্ষীরায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।