বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র হস্তান্তর আন্তর্জাতিক যুব দিবসে তালায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাইকেল র‍্যালি খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

সাঁথিয়ার গ্রামগুলোতে মাদকের ছড়াছড়ি, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

 

 

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের হাটবাড়িয়া মোল্লাপাড়া ও সুন্দরকান্দি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটেছে বলে গুরুতর অভিসাঁথিয়ারযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে আসছে, যার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এর ফলে পরিবারে অশান্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সময় শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাগুলো এখন মাদক সংশ্লিষ্ট নানা অপরাধের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মাদক ব্যবসার প্রভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আগে আমাদের এলাকায় এমন পরিস্থিতি ছিল না। এখন সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়াও কঠিন হয়ে গেছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।”

এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—মো. আব্দুল কালাম, মোছা. হুমায়রা খাতুন, মো. ফরিদ মোল্লা ও মোছা. পাকিয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়দের দাবি, তারা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

বিশেষ করে মো. আব্দুল কালামের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব মামলার পরও তার কার্যক্রম বন্ধ না হয়ে বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ এই মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বললেই সংশ্লিষ্ট চক্র ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং নানা ধরনের হয়রানি করে থাকে। এমনকি মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা প্রতিবাদ করতে গেলেই হুমকি দেওয়া হয়। অনেক সময় মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। তাই সবাই চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছে।”

এলাকাবাসীর মতে, কিছু পরিবার জীবিকার তাগিদে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে করে মাদক ব্যবসা দিন দিন বিস্তৃত হয়ে একটি বড় নেটওয়ার্কে পরিণত হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তারা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। একই সঙ্গে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews