বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র হস্তান্তর আন্তর্জাতিক যুব দিবসে তালায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাইকেল র‍্যালি খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

শ্যামনগরে ‘রেফার বাণিজ্য’ ও রোগী জিম্মি অবশেষে সিলগালা হলো বিতর্কিত আনিকা ক্লিনিক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি হাসপাতালের এক শ্রেণির চিকিৎসকের সাথে যোগসাজশে ‘রেফার বাণিজ্য’, রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং স্বজনদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই বিতর্কিত ‘আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক’ অবশেষে সিলগালা করেছে প্রশাসন। জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত (ডিএসডি নিউজ)’-এ পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। জনরোষ ও প্রশাসনিক চাপের মুখে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর সরকারি হাসপাতালের কিছু অসাধু চিকিৎসক কমিশনের লোভে রোগীদের ক্লিনিকে পাঠাতেন। সম্প্রতি পথিমধ্যে সন্তান প্রসব হওয়া হাসনাহেনা নামের এক প্রসূতিকে সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা না করেই সরাসরি আনিকা ক্লিনিকে পাঠান। সেখানে নাড়ি কাটার ফি বাবদ ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন ক্লিনিক মালিক ডা. আনিছুর রহমান। টাকা দিতে না পারায় রোগীর স্বজনদের একটি কক্ষে আটকে রেখে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত প্রথম সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

 

একই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কৈখালীর বিষপান করা রোগী সালেহা খাতুনকে (২৭) নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৪ ঘণ্টা আটকে রেখে অপচিকিৎসার অভিযোগ ওঠে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মেডিকো-লিগ্যাল রোগীকে তাৎক্ষণিক সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর কথা থাকলেও, কেবল মোটা অংকের বিল হাতিয়ে নিতে মুমূর্ষু রোগীকে জিম্মি করে রাখা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে কোনো প্রকার স্ট্রেচার বা সহায়তা ছাড়াই তাকে বিদায় করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। স্বজনদের কোলে করে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

 

দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত-এ একের পর এক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বেও একাধিকবার সিলগালা হলেও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে ডা. আনিছুর রহমান পুনরায় ক্লিনিক খুলে বসেন। তবে এবার সংবাদমাধ্যমের জোরালো ভূমিকা ও জনরোষের মুখে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

ক্লিনিকটি বন্ধ হওয়ায় সাতক্ষীরা দিগন্ত-এর সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা যখন বাণিজ্যে পরিণত হয় এবং রোগীরা জিম্মি হয়, তখন সংবাদমাধ্যমকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। সাতক্ষীরা দিগন্ত শুরু থেকেই সততা ও সাহসের সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছে।”

সাধারণ মানুষ এখন সরকারি হাসপাতালের সেই চিকিৎসকদেরও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যারা পৈশাচিক এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থেকে সাধারণ রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews