রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কক্সবাজার সীমান্তে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে বিজিবির ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি টেকনাফে কোস্ট গার্ডের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক শ্যামনগরে কনস্টেবল মেহেদীর বিরুদ্ধে লাগাতার মাদক সেবনের অভিযোগ দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি, ডোপ টেস্টের আহ্বান সাতক্ষীরার নারী জেলা প্রশাসককে নিয়ে সংসদে কটূক্তির প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন মাদকের বিরুদ্ধে যখন উত্তাল সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, তখনই ভাইরাল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কথিত ইয়াবা সেবনের ভিডিও! জনমনে তীব্র ক্ষোভ শ্যামনগরে মা’য়ের দাঁত ভাঙলো ছেলে শ্যামনগরে যৌতুকলোভী আজিজুল হক আকাশ গ্রেফতার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউপি নির্বাচন: দলীয় প্রতীক না থাকায় বাড়ছে প্রার্থীর ভিড়, মাঠে নামছেন এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী ফরিদপুরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে বিএমডিএ চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে ইউএনওর উপস্থিতিতে এনজিও কার্যক্রম ও সীমান্ত উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়, ঝিমংখালী বিজিবি ক্যাম্প পরিদর্শন

শ্যামনগরে ‘রেফার বাণিজ্য’ ও রোগী জিম্মি অবশেষে সিলগালা হলো বিতর্কিত আনিকা ক্লিনিক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি হাসপাতালের এক শ্রেণির চিকিৎসকের সাথে যোগসাজশে ‘রেফার বাণিজ্য’, রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং স্বজনদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই বিতর্কিত ‘আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক’ অবশেষে সিলগালা করেছে প্রশাসন। জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত (ডিএসডি নিউজ)’-এ পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। জনরোষ ও প্রশাসনিক চাপের মুখে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর সরকারি হাসপাতালের কিছু অসাধু চিকিৎসক কমিশনের লোভে রোগীদের ক্লিনিকে পাঠাতেন। সম্প্রতি পথিমধ্যে সন্তান প্রসব হওয়া হাসনাহেনা নামের এক প্রসূতিকে সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা না করেই সরাসরি আনিকা ক্লিনিকে পাঠান। সেখানে নাড়ি কাটার ফি বাবদ ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন ক্লিনিক মালিক ডা. আনিছুর রহমান। টাকা দিতে না পারায় রোগীর স্বজনদের একটি কক্ষে আটকে রেখে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত প্রথম সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

 

একই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কৈখালীর বিষপান করা রোগী সালেহা খাতুনকে (২৭) নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৪ ঘণ্টা আটকে রেখে অপচিকিৎসার অভিযোগ ওঠে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মেডিকো-লিগ্যাল রোগীকে তাৎক্ষণিক সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর কথা থাকলেও, কেবল মোটা অংকের বিল হাতিয়ে নিতে মুমূর্ষু রোগীকে জিম্মি করে রাখা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে কোনো প্রকার স্ট্রেচার বা সহায়তা ছাড়াই তাকে বিদায় করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। স্বজনদের কোলে করে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

 

দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত-এ একের পর এক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বেও একাধিকবার সিলগালা হলেও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে ডা. আনিছুর রহমান পুনরায় ক্লিনিক খুলে বসেন। তবে এবার সংবাদমাধ্যমের জোরালো ভূমিকা ও জনরোষের মুখে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

ক্লিনিকটি বন্ধ হওয়ায় সাতক্ষীরা দিগন্ত-এর সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা যখন বাণিজ্যে পরিণত হয় এবং রোগীরা জিম্মি হয়, তখন সংবাদমাধ্যমকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। সাতক্ষীরা দিগন্ত শুরু থেকেই সততা ও সাহসের সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছে।”

সাধারণ মানুষ এখন সরকারি হাসপাতালের সেই চিকিৎসকদেরও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যারা পৈশাচিক এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থেকে সাধারণ রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews