1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

‎যৌথ কেলেংকারীঃ মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি,আইপিএস সুবিধায় বৈষম্য ও “পুকুর চুরির”অভিযোগ

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

আবু রায়হান,মণিরামপুর(যশোর):

 

নিয়মিত সেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন,টিকিট কাউন্টারে বিরক্তিকর অবস্থা! লাইনে দাড়িয়ে এক নারী ডাক্তারের পরামর্শ নিতে সংগৃহীত টিকিট দিয়ে কোন রকম বাতাস খাওয়ার চেষ্টা করছে নিজেই! অন্য এক লাইনে দাড়িয়ে এক নারী তার কোলের সন্তানের অসহ্য গরমের হাস ফাঁস অবস্থা সামাল দিতে শরীরের কাপড় নেড়ে চলেছে। দ্বীতিয় ও তৃতীয় তলায় দেখা যায়,একজন বৃদ্ধকে হাতপাখা টেনে বাতাস দিয়ে চলেছে তিন জনে। প্রতিটি বেডে দেখা গেলো একই চিত্র! দুঃখজনক হলেও বাস্তব চিত্রে বিদ্যুৎ না থাকলেও ফ্যানের পাখা ঘুরছে ডিউটিরত নার্স সহ নির্দিষ্ট কয়েকটি কক্ষে। প্রশ্ন থেকে যায়, এই সেবা কি তাহলে নির্দিষ্ট বরাদ্দের! তাহলে বরাদ্দের বন্টনে কেনো এমন বৈষম্য! এমনই অভিযোগ করেছে একাধিক রোগী,রোগীর স্বজন এমনকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উল্লেখিত আইপিএস সেবা না পাওয়া বিভিন্ন বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফরা।

 

‎যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ মেরামতের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও “পুকুর চুরির” অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে কোটি টাকার সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্কারের হিসাব থাকলেও বাস্তবে রোগীরা ব্যবহার করছেন পুরনো ও জরাজীর্ণ সামগ্রী। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের স্থাপন করা এয়ার কন্ডিশন (এসি) খুলে রাখা এবং জরুরী সেবা নিতে আসা রোগীদের জন্য সরকারী বরাদ্দকৃত আইপিএস সংযোগ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন!

 

‎খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল (এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেড) থেকে ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪৭৭ টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ইডিসিএল বহির্ভূত আরও ২৬ লাখ ৪ হাজার ৭৬৫ টাকার ওষুধসহ মোট ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭৬৫ টাকার এমএসআর (চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জাম) ক্রয়ের জন্য ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

 

‎দরপত্রে নির্বাচিত হয় “লাকি মেডিসিন সাপ্লাই” নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ৬টি গ্রুপে ওষুধ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ-ব্যান্ডেজ, লিলেন সামগ্রী, কেমিক্যাল রিএজেন্ট ও আসবাবপত্র সরবরাহ করে। এসব সামগ্রী গ্রহণ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪ সদস্যের সার্ভে কমিটি।

 

‎তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের এখনও ছেঁড়া ও নোংরা বিছানার চাদর ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। অথচ কাগজে-কলমে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এক হাজার পিস বিছানার চাদর, আড়াই লাখ টাকায় ফোম এবং দেড় লাখ টাকায় বেডসাইড লকার কেনার হিসাব দেখানো হয়েছে।

 

‎এ বিষয়ে স্টোরকিপার সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, “সব সামগ্রী বুঝে নিয়ে স্টোরে রাখা আছে।” রোগীদের নতুন সামগ্রী ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।”

 

‎অন্যদিকে চলতি বছরের শুরুতে দুই গ্রুপে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকার যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে ৬টি এসি, বাইনোকুলার মাইক্রোস্কোপ, ডেন্টাল চেয়ার, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মেরামতের হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‎প্যাথলজি বিভাগের আনিছুজ্জামান জানান, “বাইনোকুলার মেশিনে নতুন কোনো যন্ত্রাংশ লাগানো হয়নি,এসি শুধু পানি দিয়ে ধোয়া হয়েছে।অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন স্থাপন হওয়া আইপিএস সংযোগে সরেজমিনে দেখা যায়,আউটডোর,পুরুষ ওয়ার্ড,মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড,প্যাথলজী,জরুরী বিভাগ কোথাও যুক্ত হয়নি বিদ্যুৎ এর পরিপূরক এ সুবিধা। তবে আইপিএস সেবা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে পরিসংখ্যান বিভাগ,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধানের (টিএসই) কক্ষ,২য় ও ৩য় তলার নার্সদের ডিউটি কক্ষে লেগেছে আইপিএস সরবারাহের সুবিধা। আর নাম মাত্র জরুরী বিভাগে ১টি বাল্ব ও মহিলা ওয়ার্ডে ১টি বাল্বে আইপিএস সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। অথচ, দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তার স্বজনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও সে সেবা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বন্টন করে নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান তত্বাবধায়ক (টিএসই) ডাঃ ফয়েজ আহমেদ ফয়সাল।

 

‎তথ্য আছে,সাবেক পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ তন্ময় বিশ্বাস দায়িত্বে থাকাকালীন মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডর এসি খুলে ১টি হলরুমে আরেকটি টিএসই রুমে স্থাপন করা হয়। তার বিপরীতে একটি এসি মহিলা ওয়ার্ডে নাম মাত্র প্রতিস্থাপন করলে বর্তমানে তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে।আরেকটি এসি মেরামতের পর স্থাপন করা হয়েছে স্টোর রুমে। যদিও এসি গুলো সবই মেরামতের পর নির্দিষ্ট স্থানে দেওয়ার কথা তবুও সে সব এসির মেরামতের পর আর ওঠেনি উপরে।

 

‎সরেজমিনের চিত্র ও কয়েকটি অভিযোগের বাস্তব চিত্র অনুযায়ী মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সঠিক তদারকি এবং তত্বাবধায়ক ডাঃ ফায়েজ আহমেদ ফয়সালের ব্যার্থতায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। যার ফলে সচেতন মহলের দাবী অচিরেই যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ ত্রুটি নিষ্পত্তি না হয় তাহলে সেবার মানে দিন গেলেই এই সেচ্চা-চারিতা বৃদ্ধি পাবে। সাথে সাথে রোগী ও স্বজনদের আক্ষেপে সুনামের পরিবর্তে দূর্নাম ছড়াবে।

 

‎এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধায়ক (টিএসই) ডাঃ ফায়েজ আহমেদ ফয়সাল জানান,এ বছর যা পেরেছি দিয়েছি। আগামি বছর আবার হবে। ইচ্ছা তো হয় সারা মণিরামপুরে এসি লাগিয়ে দেই। আইপিএস সুবিধা স্বল্প হওয়াতে গুরুত্বপূর্ণ যে গুলো সেখানে দিয়েছি,বাকিটা আসলে দিবো!

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত