
আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর)
যশোরের মণিরামপুরে শরীকদের জমি ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ভাবে একটি পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ১৮ই জুলাই দুপুরে এ হামলায় মোছাঃ তানিয়া খাতুন(২৪) নামের এক গর্ভবতী নারী সহ মোট ৩ জনের আহতের খবর উল্লেখ করে মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত গর্ভবতী নারীর স্বামী মৃত আলী বক্স মোড়লের ছেলে মোঃ মিলন হোসেন।
অভিযোগে মোঃ টুটুল হোসেন(৩৬), ২ মোঃ ইসহাক হোসেন (৫০), উভয় পিতা- মৃত সোবান মোড়ল, ৩। মোঃ লাভলু (২৮), পিতা- মোঃ মিজানুর রহমান, ৪। মোছাঃ লিমা খাতুন (৩৫), স্বামী-মোঃ টুটুল হোসেন, ৫। মোছাঃ জাহেরুন(৫০), পিতা-মৃত সোবান মোড়ল, ৬। মোছাঃ রেকসোনা খাতুনকে (৩৫) অভিযুক্ত করে দাবী করা হয় যে,বিবাদীদের সহিত তাদের বসতবাড়ির জমি নিয়া বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। উক্ত জমি মাপযোপ করিয়া সীমানা নির্ধারন করার জন্য অনেকবার তাদের বলিলেও তাহারা কোন কর্ণপাত করে না। যার কারনে ১৭ তারিখ আমরা আমিন নিয়ে বসতবাড়ির জমি মাপযোপ করিয়া সীমানা নির্ধারন করে খুটি পুতি কিন্তু বিবাদীরা সেখানে হাজির হয় না। বিবাদীরা আমিন চলে গেলে সাথে সাথে উক্ত সীমানা গুটি উঠাইয়া দেয়। এরপর আমাদের মারপিট করার জন্য পরিকল্পনা করিতে থাকে এবং সুযোগ খুজতে থাকে, পরদিন শনিবার ১৮ই জুলাই বেলা অনুমান ১টার দিকে আমিসহ আমার ভাইরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে বিবাদীরা আমার বসতবাড়িতে আসিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার স্ত্রী মোছাঃ রেখা খাতুন নিষেধ করিলে বিবাদীরা তাকে এলোপাতাড়াভাবে কিল-ঘুষি মারিয়া নীলাফোলা জখম করে এবং চুলের মুঠি ধরিয়া টানিয়া নিয়ে বেড়ায় এবং গলাচেপে ধরে এবং হত্যা করে ফেলবে বলতে থাকে ০১নং বিবাদী বাশের লাঠি দিয়ে আমার স্ত্রীর মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে বাড়ি মারিয়া রক্তজমাট জখম করে। তাকে মাটিতে ফেলে পেটে, বুকে ও মাথায় লাথি মারিয়া রক্তজমাট জখম করে। তখন আমার ভাইয়ের স্ত্রী মোছাঃ তানিয়া খাতুন ঠেকাইতে আসিলে আসামীরা গর্ভবস্থায় তার শরীরের বিভিন্নস্থানে বাড়ি মারিয়া রক্ত জমাট জখম করে। তানিয়ার চুলের মুঠি ধরিয়া টানা-হেচড়া করে এবং মাটিতে ফেলে তার পেটে বশের লাঠি দিয়ে বাড়ি মারে এবং বলে পেটের বাচ্চা হত্যা করে ফেলবে। এরপর তানিয়ার পরনের কাপড়-টানা হেচড় করে। ঐ সময় আমার ছোটা ভাই মনিরুল ইসলাম (২৮), ঠেকাইতে আসিলে আসামীরা তাকে মারপিট করিয়া পুকুরে নিয়ে হত্যা করার জন্য পানির মধ্যে চেপে ধরে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই নারীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় যশোর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
পরে স্থানীয়রা আমার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তানিয়াদের অজ্ঞান অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মণিরামপুর নিয়া ভর্তি করে।
এ বেপারে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে মনিরামপুর থানা পুলিশ।