বাগমারায় প্রতিবন্ধী ফিরোজার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়ও ভাঙচুর! বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ

তালা উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার বাগমারা গ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অসহায় ওই নারী বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে পাটকেলঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী ফিরোজা খাতুন (৪২) বাগমারা গ্রামের মৃত জব্বর গাজীর কন্যা। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারেন না। তার দাবি, দীর্ঘ কষ্টে ও মানুষের সহযোগিতায় সরকারি দেওয়া ঘরটি মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করেছিলেন। কিন্তু সেই শেষ আশ্রয়টুকুও ভাঙচুর করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তোজাম গাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় ফিরোজা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে তোজাম গাজী (পিতা-মজলিশ গাজী), মফিফুল গাজী (পিতা-মোসলেম গাজী) ও লিটন গাজী (পিতা-নিজাম গাজী)সহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন,
“আমরা দেখেছি কয়েকজন লোক একসঙ্গে এসে তাদের ঘর ভাঙচুর করেছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয়।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফিরোজা খাতুন বলেন,
“আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। কষ্ট করে, না খেয়ে টাকা জমিয়ে আমার ভাঙা ঘরটা মেরামত করেছিলাম। আমার থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। সেই ঘরটাও ভেঙে দিয়েছে। আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমার পক্ষে কথা বলার মতো কেউ নেই। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, যেন আমি ন্যায়বিচার পাই।”
তিনি আরও বলেন,
“প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে আমাকে দুর্বল মনে করে বারবার নির্যাতন করা হয়। এখন আমি চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।”
এদিকে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে রুবেল গাজী বলেন,
“আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ঘর করা হয়েছিল। তাই পরিবারের সদস্যরা মিলে ঘরটি ভেঙে দিয়েছে। এটা আমাদের ভুল হয়েছে। তবে আমরা কাউকে মারধর করিনি।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘর ভাঙচুরের ফলে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান প্রতিবন্ধীর পরিবারের ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ খরচে ঘর সংস্কার করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন আর মারধরের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে তবে এলাকাবাসী প্রতিবন্ধী পরিবারের পক্ষে আছে।
একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় ভেঙে যাওয়ার এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।