
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার নকিপুর জমিদার বাড়ি সংলগ্ন বিলে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ঈদ আনন্দ মেলা’র সরকারি অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগেই। তবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় এখনো প্রকাশ্যে চলছে মেলার কার্যক্রম। সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরও মেলা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর ইউনাইটেড ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি জনাব শেখ গোলাম মোস্তফা সোহেল অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ০২ জুন, ২০২৬ থেকে ১১ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১০ দিন ব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী, প্রতিবন্ধী উৎসব ও আনন্দ মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সাথে মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তারও নির্দেশনা ছিল।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী গত ১১ জুন মেলার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী ১২ জুন সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ ফাঁকা ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আজ ১৬ জুন (মঙ্গলবার) মেলা পঞ্চম দিনের মতো অবৈধভাবে চলমান থাকতে দেখা গেছে।
মেলার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা অবাধে চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“সাধারণ মানুষ সামান্য নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি অ্যাকশন দেখা যায়। কিন্তু এখানে মেলা কর্তৃপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন অবৈধভাবে মেলা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আইন ও বিধি-বিধান কি সবার জন্য সমান নয়?”
নকিপুর জমিদার বাড়ি এলাকার সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন— মেলা কমিটি কি নতুন করে কোনো সময় বর্ধিতকরণ বা বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়েছে? যদি নিয়ে থাকে, তবে তা কেন জনসম্মুখে বা মেলা প্রাঙ্গণে প্রদর্শন করা হচ্ছে না? আর যদি নতুন কোনো অনুমোদন না থেকে থাকে, তবে কার ছত্রছায়ায় এবং কোন স্বার্থে প্রশাসন এই অবৈধ মেলার বিরুদ্ধে নীরব ভূমিকা পালন করছে?
এ বিষয়ে জানতে শ্যামনগর ইউনাইটেড ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি ও মেলা আয়োজক কমিটির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মেলার সময়সীমা পার হওয়ার পরও তা চলমান থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।
আইনের সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি অনতিবিলম্বে খতিয়ে দেখার জন্য সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ। প্রভাবশালীদের উদাসীনতা উহ্য রেখে, সরকারি নিয়মের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত এই বিষয়ে জনসম্মুখে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং মেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।
শ্যামনগর উপজেলা ইউএনও এবং উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) মুঠোফোনে কল দিলেও রিসিভ করেনি এজন্য বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি