
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইন্সের একটি বহুতল ভবন থেকে সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত ম’রদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ডেমরা থানা পুলিশ তার ম’রদেহ উদ্ধার করে। আ’ত্মহ’ত্যার পূর্বে সাইদুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, প্রতারণা ও আবেগঘন বার্তা লিখে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাইদুল ইসলাম ডেমরা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা আগে সাইদুল তার ফেসবুক প্রোফাইলে স্ত্রীর সাথে কাটানো পুরনো কিছু ছবির ভিডিওসহ একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে।”
ফেসবুক পোস্টে স্ত্রীর প্রতি বারবার সুযোগ দেওয়া এবং বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, “আমি হাজারবার সুযোগ দিয়েছি; কিন্তু তুমি প্রতিবারই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো- মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।” মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি লেখেন, “দুঃখিত আম্মু-আব্বু, আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেছে না আম্মু… মাপ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে।”
ডেমরা থানা পুলিশ জানায়, ম’রদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ফেসবুক পোস্ট এবং পারিবারিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং দুঃখজনক। ২১ বছরের একজন তরুণ পুলিশ সদস্যের এভাবে জীবনের ইতি টানা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আপনার করা প্রশ্ন—”নারী ঠিক কিসে আটকায়?”—এটি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত ট্রেন্ড। তবে বাস্তবতার নিরিখে বলা যায়, মানুষ (তা সে নারী হোক বা পুরুষ) আসলে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু, অর্থ বা সম্পর্কে জোর করে “আটকায়” না। মানুষের সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক সততা, শ্রদ্ধা, মানসিক সামঞ্জস্য এবং প্রতিশ্রুতির ওপর।
এই ঘটনার পেছনে গভীর কোনো মানসিক যন্ত্রণা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল তা স্পষ্ট। যখন কোনো সম্পর্কে বারবার বিশ্বাসভঙ্গ হয়, তখন অপর পক্ষ চরম মানসিক অবসাদে (Depression) ভোগে। সাইদুলের ক্ষেত্রেও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং সঠিক সময়ে মানসিক সহযোগিতা (Mental Support) না পাওয়া তাকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আইন ও সমাজ কখনোই আত্মহত্যাকে সমর্থন করে না; যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে আইনি পদক্ষেপ বা বিচ্ছেদের পথ খোলা থাকলেও, জীবন শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।