
নজরুল ইসলাম খোকন, টেকনাফ,কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পালংখালী এলাকায় কৃষি সার পাচারের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযানে দুই দফায় অন্তত অর্ধশতাধিক বস্তা সার জব্দ হওয়ার ঘটনায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কৃষকদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা এসব সার মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় মজুদ করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গয়ালমারা সীমান্তসংলগ্ন আনজুমানপাড়া এলাকায় সাত বস্তা সার পাচারের সময় স্থানীয় জনতা একটি চালান আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, সারগুলো রামু উপজেলা থেকে সংগ্রহ করে উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় আনা হয়েছিল। একই সময়ে পশ্চিম পালংখালী এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও ৫০ থেকে ৬০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, চকরিয়া, ঈদগাঁও, রামু ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সার সংগ্রহ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্তবর্তী স্থানে মজুদ করে। পরে সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে কিংবা দুর্গম পথ ব্যবহার করে সেগুলো মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে পাচারের চেষ্টা চালানো হয়।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, কৃষকদের জন্য সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার পাচার হয়ে গেলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা অভিযোগ করেন, এক উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত সার অন্য উপজেলায় পরিবহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে সেই নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৪২০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার একটি অংশ পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার বলেন, “সারসহ বিভিন্ন পণ্য আরাকানে পাচারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সার পাচার রোধে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, চলতি জুন মাসে উখিয়া উপজেলার জন্য মাত্র ৬৭ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জব্দ হওয়া সার অন্য উপজেলা থেকে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের জব্দ করা সার পরে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “সার পাচার ও সার জব্দের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। সারসহ সব ধরনের পণ্য মিয়ানমারে পাচার রোধ এবং এ-সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা বন্ধে ৬৪ বিজিবি, কৃষি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সচেতন মহলের দাবি, সীমান্ত এলাকায় সারের অস্বাভাবিক মজুদ ও পরিবহনের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত পরিচালনা এবং কক্সবাজার-উখিয়া সড়কের বিভিন্ন চেকপোস্টে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি উপকরণ পাচার রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।