বিশ্ব বাবা দিবস: নীরব ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পিতৃস্নেহ

নজরুল ইসলাম খোকন,টেকনাফ, কক্সবাজার
‘বাবা’—মাত্র দুটি অক্ষরের একটি শব্দ। অথচ এই ছোট্ট শব্দের ভেতর লুকিয়ে আছে অফুরন্ত ভালোবাসা, নিরাপত্তা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য গল্প। আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভালোবাসার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। প্রতিটি সন্তানের জীবনে প্রথম নায়ক, প্রথম শিক্ষক এবং নির্ভরতার প্রতীক বাবাকে সম্মান জানানোর বিশেষ দিন এটি।
পরিবারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে যিনি নীরবে পথ চলেন, তিনিই বাবা। নিজের স্বপ্ন, শখ কিংবা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে যিনি বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান, তার সেই ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ পায় না কথায়; বরং দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে। মায়ের স্নেহ যেমন সহজেই দৃশ্যমান হয়, বাবার ভালোবাসা তেমনি অনেক সময় কঠোরতা ও দায়িত্বশীলতার আবরণে আড়াল হয়ে থাকে।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলেছে বাবার ভূমিকাও। আধুনিক সমাজে বাবারা এখন আর শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; সন্তানের লালন-পালন, শিক্ষা, খেলাধুলা, মানসিক বিকাশ এবং জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ের বাবা সন্তানের কাছে কেবল অভিভাবকই নন, বরং একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং অনুপ্রেরণার উৎস।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বাবা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। বাবাকে ভালোবাসার জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। একটি আন্তরিক ফোনকল, কিছু সময় একসঙ্গে কাটানো কিংবা ভালোবাসাভরা একটি আলিঙ্গনই একজন বাবার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হতে পারে। কারণ বাবারা নিজেদের কষ্ট ও ক্লান্তির কথা খুব কমই প্রকাশ করেন, কিন্তু সন্তানের প্রতিটি সাফল্যে তারাই সবচেয়ে বেশি আনন্দ অনুভব করেন।
তবে দিনটি সবার জন্য সমান আনন্দের নয়। যাদের বাবা আর বেঁচে নেই কিংবা যারা বাবার সান্নিধ্য থেকে দূরে আছেন, তাদের কাছে এই দিনটি হয়ে ওঠে স্মৃতিময় ও আবেগঘন। প্রয়াত বাবার শিক্ষা, আদর্শ এবং স্মৃতিগুলোই অনেকের জীবনে এগিয়ে চলার শক্তি ও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকে।