
নজরুল ইসলাম খোকন,টেকনাফ, কক্সবাজার
কক্সবাজারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ রেজুখাল চেকপোস্টে পরিচালিত পৃথক অভিযানে এসব ইয়াবা উদ্ধার এবং আসামিদের আটক করা হয়।
প্রথম অভিযানে গত ১১ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে দুই যাত্রী মো. শাহ জালাল (২১) ও মো. সোনা মিয়া (৪০)-কে আটক করা হয়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করে। পরে তাদের পেটের ভেতর থেকে পায়ুপথের মাধ্যমে ২ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পাচারে ব্যবহৃত দুটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে ১২ জুন সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে মরিচ্যা বাজার থেকে কক্সবাজারগামী একটি মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে মো. শাহনেওয়াজ (১৮) ও মো. আলমগীর (২৬)-কে আটক করা হয়। পরে মোটরসাইকেলের গোপন স্থানে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
একই দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পরিচালিত তৃতীয় অভিযানে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে চালক মো. জুনায়েদ (১৯)-কে আটক করা হয়। পরে চালকের সিটের নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৮ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও জব্দকৃত মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ্য, রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।