
বাবলু রহমান বাবু, সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্টার।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন গাবুরার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল গনি এর বিরুদ্ধে ভূমি সেবায় নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান সংশোধন, দাখিলা কাটা এবং খাস জমি বন্দোবস্তসহ সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল ভূমি সেবা পেতে এসে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
অভিযোগ, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি সেবা ডিজিটাল ও সহজতর করার কথা থাকলেও গাবুরা ভূমি অফিসে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরাসরি সেবা না দিয়ে কালিগঞ্জের জয়ন্ত (01911248830) নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সরকার যেখানে ভূমি সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, সেখানে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সেবা প্রদানে ই-নামজারির আবেদনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, সাধারণ সেবাগ্রহীতা সরাসরি গেলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, নির্দিষ্ট দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকার নির্ধারিত ফি-র বাইরে বিবিধ খরচের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
যাতায়াত ও ভৌগোলিক ভোগান্তি: গাবুরা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন। যাতায়াত করতে এমনিতেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়, তার ওপর ভূমি অফিসে এসে দিনের পর দিন ঘুরে কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে উপকূলের অসহায় মানুষের মাঝে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, একটি নামজারি সংশোধনের জন্য তিন মাস ধরে ঘুরছি। অনলাইনে আবেদন করার পরও অফিসে এলে বলা হয় সার্ভার ডাউন কিংবা ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বাড়তি টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়।
এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আব্দুল গনি (০১৭৪০৬১৭২৯৬) সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, জনবল সংকট এবং মাঝে মাঝে ইন্টারনেট সংযোগের ত্রুটির কারণে সেবা দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়, তবে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা ইচ্ছাকৃত হয়রানির সুযোগ নেই।
উপকূলীয় অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের দোরগোড়ায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন গাবুরার সাধারণ জনগণ।