1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

শ্যামনগরে সংবাদ সম্মেলন মামলার প্রধান আসামিকে টাকার বিনিময়ে পালিয়ে যেতে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে

মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্টার
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্টার

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত প্রধান আসামিকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাগিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আল আমিন হোসেন নামের এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে তিনি ওই মামলার বাদীপক্ষের ভাই—যিনি একজন কর্মরত সেনা সদস্য, তাকে ‘ভুয়া সেনা’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ২৭ মে (বুধবার) শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সেট্রোল কালিনগর গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মরত সদস্য মোঃ সালাউদ্দিন (বাপ্পী)।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালাউদ্দিন বাপ্পী জানান, বিগত ৮ বছর পূর্বে সামাজিক ও ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তার একমাত্র বোন সাদিয়া খাতুনের (২২) সাথে একই গ্রামের মফিজ উদ্দীন গাজীর পুত্র মোঃ জামাল হোসাইনের বিবাহ হয়। তাদের সংসারে ৬ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। কিন্তু জামাল হোসাইন পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়ার পর থেকেই সাদিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যৌতুক দাবি করে আসছিল।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে সাদিয়া খাতুন বাদী হয়ে স্বামী জামাল হোসাইন, দেবর শহিদুল ইসলাম ও ননদ রাবেয়া বেগমের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪৮)। মামলার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিল।

 

সালাউদ্দিন বাপ্পী বলেন, গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসাইনকে মুন্সিগঞ্জ বাজারে দেখতে পেয়ে তিনি ও স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রেখে শ্যামনগর থানা পুলিশকে খবর দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে।

এ সময় একই গ্রামের মুজিবুর রহমান গাজীর পুত্র ও সাংবাদিক নামধারী আল আমিন হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি আসামিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের জিম্মায় নেন। কিন্তু পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা বা টাকার বিনিময়ে আসামিকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে না পেয়ে ফিরে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামি পালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে মোড় নিতে আল আমিন হোসেন ঘটনাস্থলের কিছু ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে দিয়ে কর্তব্যরত সেনা সদস্য সালাউদ্দিন বাপ্পীকে ‘ভুয়া সেনাবাহিনী সদস্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালান।

 

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, আল আমিন হোসেনের কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে জেলে সম্প্রদায়ের এক নারীর অপমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করায় তার বিরুদ্ধে জেলেরা মানববন্ধনও করেছিল। এছাড়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিভিন্ন দপ্তর ও সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি কিছুদিন আগে একটি মৃত বাড়িতে গিয়েও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সে এলাকাবাসীর ধাওয়ার শিকার হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরোক্ষ মদদ থাকার কারণেই একাধিক নিউজ ও মানববন্ধন হওয়ার পরও আল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে বোন নির্যাতনকারী পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং টাকার বিনিময়ে আসামি পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী ও চাঁদাবাজির হোতা কথিত সাংবাদিক আল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি ও কার্যকারী হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত