
সাহারা সুলতানা বিশেষ প্রতিনিধি
সিলেট সদর উপজেলায় চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে পাশবিক নি’র্যা’তনের পর হ’ত্যার লোমহর্ষক ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ঘাতক প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) সোমবার (১১ মে) রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির শিশুটিকে ধ’র্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হ’ত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে নিখোঁজ ফাহিমা আক্তারের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শিশুটিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে নিজের নির্জন বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় জাকির। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সে শিশুটির ওপর শারীরিক নি’র্যা’তন চালায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজের স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে হ’ত্যা করে এবং মরদেহটি একটি ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর জাকির হ’ত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। সে জানায়, নি’র্যা’তনের পর শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে সে আতঙ্কিত হয়ে হ’ত্যার পথ বেছে নেয়। হ’ত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়না ও আনুষঙ্গিক আলামত ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
জাকিরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানা এলাকা। বিক্ষুব্ধ জনতা থানার সামনে জড়ো হয়ে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মধ্যরাতে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত জাকিরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত ফাহিমার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে এই পাষণ্ড হ’ত্যাকারীর দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মামলাটির অধিকতর তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।”
সিলেটের এই নৃ’শংস ঘটনায় পুরো জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।