
আবু রায়হান স্টাফ রিপোর্টার
“ভাটার কাঁচামাল মাটি সংগ্রহ করতে দিন,অন্যথায় ভাটা বন্ধ ঘোষনা দিন”এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের ভাটা মালিক ও শ্রমিকদের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা আর্তনাদ, গুমরে গুমরে কাঁদা আত্মচিৎকার কি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পৌছাবে সরকারের কর্ণকুহরে?
বাংলাদেশে বর্তমানে মাটি দ্বারা পোড়ানো ইটের বিকল্প হিসাবে এখনো কিছু বের হয়নি।
বালু, সিমেন্ট দিয়ে তৈরী ইট যেটাকে আমরা ব্লক ইট নামে জানি সেটি ব্যবহার করার কথা থাকলেও ব্লকের ইট তৈরি করা সাধারণ ইটের চেয়ে অনেক বেশী ব্যয়বহুল। সবকিছু মিলিয়ে সকল ক্রেতার সেই ইট কেনার সক্ষমতা নাই। পোড়া মাটির ইটের চাহিদা বহুল প্রচলিত ও সাশ্রয়ী বলে মনে করেন ক্রেতারা। পোড়া মাটির ইটের সাথে বাংলাদেশে অসংখ্য ছোট বড় শিল্প, ব্যবসা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানে সব মিলিয়ে কয়েক কোটি লোকের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। পোড়া মাটির ইট ব্যতীত প্রায় সকল সরকারী উন্নয়ন অসম্ভব। কিন্তু ইট তৈরীর মুল উপাদান মাটি সংগ্রহ করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় মাটি সংগ্রহ করতে না দিলে ইটভাটাগুলো সব বন্ধ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করে ভাটা মালিকগনের পক্ষে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক মাটি সংগ্রহের অনুমতির দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক বরাবর।
যশোর জেলার আটটি থানার মধ্যে যশোর সদরে ২৭টি, শার্শা উপজেলায় ২০টি, ঝিকরগাছা উপজেলায় ১৮টি, বাঘারপাড়া উপজেলায় ১০টি, অভয়নগর উপজেলায় ৯টি, কেশবপুর ও চৌগাছা উপজেলায় ১৭টি এবং মনিরামপুর উপজেলায় ২৬টির মত ইটভাটা আছে। সব উপজেলায় কম বেশী ভাটার একমাত্র কাঁচামাল “মাটি” সংগ্রহ করতে পারলেও ঝিকরগাছা এবং বাঘারপাড়ার ভাটার মালিকগণ মাটি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এই দুই উপজেলার ইউএনও আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হয়ে মাটি কাটা ও বহন করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
যেখানে ভাটা শিল্পের সাথে প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে রাজমিস্ত্রি (শ্রমিক), রড, সিমেন্ট, বালু, রং, জ্বালানি তেল, কয়লা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সহ আরও কয়েকটি শিল্প জড়িত। আরও বলতে গেলে বাড়ীঘর নির্মান, সরকারি ভবন, রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ সহ সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পোড়া মাটির ইটের কোন বিকল্প নেই। ইট উৎপাদন বন্ধ হলে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। দেশে বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। প্রায় ৩কোটির অধিক মানুষ কর্মহীন হয়ে যাবে ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে। তাই যতক্ষন না দেশে পোড়ামাটির ইটের বিকল্প কোন কিছু না আসে ততক্ষন পর্যন্ত (ধানী, বাগান ও কৃষি জমি ব্যতীত) সমাজের ও দেশের ক্ষতি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে মাছের ঘের, ভেড়ী, পুরাতন পুকুর, সরকারি খাল, নদী খনন বা সংস্কার করে যে মাটি পাওয়া যায় সেটি নেওয়ার অনুমতি ভাটা মালিককে দেওয়া হোক বলে ভাটা মালিক সমিতি জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তিলেতিলে শেষ না করে ভাটা সম্পূর্নভাবে নিষিদ্ধ করা হোক বলেও জোর দাবি করে তারা বলেন, হয় একেবারে বন্ধ করে
মারেন, না হলে কাঁচামাল হিসাবে মাটি সংগ্রহের সুযোগ দিয়ে ভাটা শিল্পকে বাঁচান।
ইউএনও, এসিল্যান্ড সাহেবেরা মাঝে মাঝেই অভিযান চালিয়ে মাটির গাড়ী জব্দ, জেল জরিমানা প্রদান করছেন। এতে করে ভাটা মালিকদের সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। অথচ প্রত্যেক ভাটা মালিক প্রতিবছর সরকারকে ভ্যাট, ট্যাক্স সহ প্রায় ৬,০০,০০০(ছয় লক্ষ)-এর অধিক টাকা প্রদান করে থাকেন। সমিতির ঝিকরগাছা ইট ভাটা মালিক সমিতির বক্তব্য হলো, জেলা প্রশাসক মহোদয় যদি ইটভাটা বন্ধ করতে চান তাহলে এইভাবে মাঠে মাঠে ইউএনও, এসিল্যান্ড বা পুলিশ দ্বারা বেইজ্জতী না করে সহজ পথ হলো ইটভাটার ব্যবহৃত জ্বালানী কয়লা বিক্রয়ের উপর হস্তক্ষেপ করা। নওয়াপাড়ায় কয়লা আমদানিকারকদের একটি চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন ইটভাটায় কয়লা বিক্রি নিষিদ্ধ। তাহলে আপনাদের আর কোথাও অভিযান চালানো লাগবে না। অথবা যশোর জেলার ইটভাটা মালিক সমিতিকে একটি চিঠি দেওয়া হোক, ইটভাটায় মাটি ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়ে। জেলার ৮টি থানার ইটভাটায় মাটি কাটার জন্য বৈষম্যমূলক আচরণ যাতে না হয় তার জন্য ইউএনও মহোদয় গনকে একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে সবিনয় অনুরোধ জানান তারা।