1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

সুন্দরবন উপকূলের জীবনচিত্র লোনা জলের আবর্তে টিকে থাকার লড়াই

সাহারা সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

সাহারা সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি 

 

০৮ মে, ২০২৬প্রকৃতির অশেষ দান আর দুর্যোগের চিরন্তন আশঙ্কা— এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা। একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের মরণকামড়। এখানকার জনজীবনের পরতে পরতে যেমন জড়িয়ে আছে রোমাঞ্চ, তেমনি আছে যাপনের কঠোর সংগ্রাম। সম্প্রতি সরেজমিনে কয়রা ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা ঘুরে উঠে এসেছে স্থানীয়দের সুবিধা-অসুবিধা এবং বনজীবীদের জীবনযুদ্ধের চিত্র।

সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার জেলে, বাউয়ালি (গোলপাতা ও কাঠ সংগ্রহকারী) এবং মৌয়ালদের জীবন কাটে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে বাজি রেখে।

গহীন বনের খাড়ি থেকে মাছ ধরা বা গোলপাতা কাটার সময় বাঘের আক্রমণ এবং নদীতে কুমিরের ভয় তাদের নিত্যসঙ্গী।

সরকারি ঋণের অপ্রতুলতায় মহাজনদের দাদনের ওপর নির্ভরশীল এসব বনজীবী। হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে লভ্যাংশের সিংহভাগ চলে যায় দাদনদারের পকেটে, ফলে বছরের পর বছর তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরে না।

বনের ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম খাদ্য সংকটে ভোগেন এই সাহসী মানুষগুলো।

 

কয়রাবাসীর জন্য জীবন মানেই লোনা পানির সাথে মিতালি। তবে সময়ের সাথে সাথে এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সংকট রয়ে গেছে মূলে।

কয়রার মানুষের প্রধান ও একমাত্র দাবি— টেকসই বেড়িবাঁধ। প্রতিটি বর্ষায় কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে পলিমাটির বাঁধ ভেঙে নোনা পানি ঢুকে ধ্বংস করে দেয় জনপদ, কৃষিজমি ও মাছের ঘের।

চারদিকে পানি থাকলেও তৃষ্ণা মেটানোর এক ফোঁটা মিঠা পানির জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয় নারীদের। টিউবওয়েলগুলো থেকে বের হয় লোনা পানি।

উপজেলার প্রান্তিক গ্রামগুলো থেকে সদর হাসপাতালে পৌঁছানোর পথ অত্যন্ত দুর্গম। জরুরি চিকিৎসায় দ্রুত খুলনা শহরে পৌঁছানো এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ।

 

লোনা পানিতে বাগদা চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল বৈদেশিক মুদ্রা যোগ হচ্ছে।

দুর্গম এলাকা হওয়া সত্ত্বেও মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর ফলে কয়রার তরুণরা এখন ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন ব্যবসার সাথে যুক্ত হতে পারছে।

 

কয়রাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের পর্যটন এখন এক বিশাল সম্ভাবনার নাম। করমজল, হাড়বাড়িয়া বা কালাবগীর মতো কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বনের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি গোলপাতা সংগ্রহের দৃশ্য পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। পর্যটন বিকশিত হলে স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

উপকূলের এই প্রান্তিক জনপদকে রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং বনজীবীদের দাদনমুক্ত করার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করাই হবে কয়রার মানুষের টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি।

সুন্দরবন ও কপোতাক্ষের ঢেউয়ে টিকে থাকা এই মানুষগুলোর সংগ্রামী জীবন কেবল টিকে থাকার গল্প নয়, বরং বুক চিতিয়ে লড়াই করার এক মহাকাব্য।

 

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত