সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা খালেদুর রহমান কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যোগদান সাতক্ষীরায় বইছে শুভকামনার জোয়ার কপিলমুনিতে মাদক সহ আটক ৫জন, আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের জেল লেখালেখি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি ছড়াচ্ছেন তুলতুল। শ্যামনগরে মা”য়ের মামলায় পুত্র জেলে বিশ্বনাথের স্থানীয় রাজনীতিতে ইউপি  চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিনের চমক। ক্রীড়া কার্ড ৫০০তে উন্নীত করা হবে কালিয়াকৈরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অপহরণকারীদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিল র‍্যাব, ২৪ দিন পর নিরাপদে উদ্ধার ভিকটিম জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মানবতার সেবায় আমরা সংগঠনের উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি (টিউবওয়েল) বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন————-যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম

১৪তম গ্রেডের চাকরি থেকে শতকোটি টাকার মালিকমীর আব্দুল বারেকের সম্পদের রহস্য কোথায়

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

এক দশক আগেও যিনি তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ১৪তম গ্রেডের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন, সেই মীর আব্দুল বারেক আজ এলাকায় পরিচিত “শতকোটি টাকার মালিক” হিসেবে।

এই অস্বাভাবিক উত্থান ঘিরে এখন কেবল দুর্নীতির অভিযোগই নয়—বরং তার বিপুল সম্পদের বৈধ উৎস, নামে-বেনামে মালিকানা এবং দলিল জালিয়াতির সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

“বৈধ আয়ের সঙ্গে কোনো মিল নেই”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরির সীমিত বেতন ও ভাতা দিয়ে এমন বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত নয়। বহুতল ভবন, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট এবং বিপুল পরিমাণ জমি—সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই:

এই অর্থ এলো কোথা থেকে?

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপচর্চা এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যই ছিল এই সম্পদ সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি।

নগদ লেনদেন ও প্রভাবশালী যোগাযোগ

দুর্নীতির অদৃশ্য নেটওয়ার্ক

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মীর আব্দুল বারেকের যোগাযোগ ছিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সঙ্গে।

এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন,

“অফিসের কাজের অজুহাতে নিয়মিত টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু সেই টাকা কখনো সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত না।”

এই অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দেয় একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির ধারার দিকে।

জমি ও দলিল

নামে-বেনামে সম্পত্তি অধিগ্রহণের অভিযোগ

তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় তার নামে ও বেনামে অন্তত ২০–২৫ শতাংশ জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এসব জমি কেনার সময় আয়ের বৈধ উৎস কীভাবে দেখানো হয়েছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে।

অনেক দলিলেই দেখা যায়, সরাসরি নিজের নামের বদলে আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন বা মধ্যস্থতাকারীর নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।

বহুতল ভবন ও রাজধানীর ফ্ল্যাট

অবৈধ সম্পদের দৃশ্যমান চিহ্ন

স্থানীয়দের দাবি, তেতুলঝোড়া এলাকায় মীর আব্দুল বারেকের নামে একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে।

এছাড়া কল্যাণপুর, ধামরাইসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার মালিকানায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির তথ্য মিলেছে।

অনেক ক্ষেত্রেই এসব সম্পত্তি খণ্ডাংশ মালিকানা বা বেনামে ভাগ করে রাখা হয়েছে—যাতে সরাসরি তার নাম সামনে না আসে।

রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া

ক্ষমতার আড়ালে “স্বৈরাচারের দোসর” পরিচয়

ফখরুল ইসলাম সমরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মীর আব্দুল বারেক দীর্ঘদিন ক্ষমতার আড়ালে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের মতে, এই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়াই তাকে প্রশাসনিক দুর্নীতি চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।

ফলে তার নাম এখন এলাকায় “স্বৈরাচারের দোসর” হিসেবেই উচ্চারিত হচ্ছে—যা কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও একটি নেতিবাচক প্রতীক।

পরবর্তী পর্বে থাকছে—

সম্পদের উৎসের বিস্তারিত আর্থিক বিশ্লেষণ

অবৈধ সম্পত্তির দলিল ও প্রামাণ্য নথি

প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের নেপথ্যচিত্র

অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সত্যের খোঁজে আমাদের সঙ্গে থাকুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews