সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
এক দশক আগেও যিনি তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ১৪তম গ্রেডের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন, সেই মীর আব্দুল বারেক আজ এলাকায় পরিচিত “শতকোটি টাকার মালিক” হিসেবে।
এই অস্বাভাবিক উত্থান ঘিরে এখন কেবল দুর্নীতির অভিযোগই নয়—বরং তার বিপুল সম্পদের বৈধ উৎস, নামে-বেনামে মালিকানা এবং দলিল জালিয়াতির সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
“বৈধ আয়ের সঙ্গে কোনো মিল নেই”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরির সীমিত বেতন ও ভাতা দিয়ে এমন বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত নয়। বহুতল ভবন, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট এবং বিপুল পরিমাণ জমি—সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই:
এই অর্থ এলো কোথা থেকে?
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপচর্চা এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যই ছিল এই সম্পদ সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি।
নগদ লেনদেন ও প্রভাবশালী যোগাযোগ
দুর্নীতির অদৃশ্য নেটওয়ার্ক
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মীর আব্দুল বারেকের যোগাযোগ ছিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সঙ্গে।
এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন,
“অফিসের কাজের অজুহাতে নিয়মিত টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু সেই টাকা কখনো সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত না।”
এই অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দেয় একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির ধারার দিকে।
জমি ও দলিল
নামে-বেনামে সম্পত্তি অধিগ্রহণের অভিযোগ
তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় তার নামে ও বেনামে অন্তত ২০–২৫ শতাংশ জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে এসব জমি কেনার সময় আয়ের বৈধ উৎস কীভাবে দেখানো হয়েছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে।
অনেক দলিলেই দেখা যায়, সরাসরি নিজের নামের বদলে আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন বা মধ্যস্থতাকারীর নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।
বহুতল ভবন ও রাজধানীর ফ্ল্যাট
অবৈধ সম্পদের দৃশ্যমান চিহ্ন
স্থানীয়দের দাবি, তেতুলঝোড়া এলাকায় মীর আব্দুল বারেকের নামে একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে।
এছাড়া কল্যাণপুর, ধামরাইসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার মালিকানায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির তথ্য মিলেছে।
অনেক ক্ষেত্রেই এসব সম্পত্তি খণ্ডাংশ মালিকানা বা বেনামে ভাগ করে রাখা হয়েছে—যাতে সরাসরি তার নাম সামনে না আসে।
রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া
ক্ষমতার আড়ালে “স্বৈরাচারের দোসর” পরিচয়
ফখরুল ইসলাম সমরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মীর আব্দুল বারেক দীর্ঘদিন ক্ষমতার আড়ালে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের মতে, এই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়াই তাকে প্রশাসনিক দুর্নীতি চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
ফলে তার নাম এখন এলাকায় “স্বৈরাচারের দোসর” হিসেবেই উচ্চারিত হচ্ছে—যা কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও একটি নেতিবাচক প্রতীক।
পরবর্তী পর্বে থাকছে—
সম্পদের উৎসের বিস্তারিত আর্থিক বিশ্লেষণ
অবৈধ সম্পত্তির দলিল ও প্রামাণ্য নথি
প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের নেপথ্যচিত্র
অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সত্যের খোঁজে আমাদের সঙ্গে থাকুন