বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র হস্তান্তর আন্তর্জাতিক যুব দিবসে তালায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাইকেল র‍্যালি খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

৩২ঘণ্টা ধরে শিশু সাজিদের অপেক্ষায় মা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৬১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক প্রকাশক

তীব্র শীত কুয়াশায় ঢেকে থাকা রাত। আর সেই রাতেই রাজশাহীর তানোরের কয়েলের হাট মধ্যপাড়ায় এলাকায় শিশু সাজিদকে এক নজর দেখতে রাতভর মা রুনা বেগমের দীর্ঘ অপেক্ষা। বুধবার দুপুর পেরিয়ে বিকেল। তারপর সন্ধ্যা। পরে রাত পেরিয়ে ভোর।

 

আবার ভোর পেরিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ছোট্ট সাজিদকে কাছে পাননি মা।

 

দীর্ঘ এ সময়ে মা রুনা বেগমের আহাজারিতে কোয়েল হাট মধ্যপাড়ার আকাশ-বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে। বুকফাটা আর্তনাদে শুধু বলছিলেন, আমার ছেলের মঙ্গলবার রাত থেকেই প্রচণ্ড জ্বর ছিল। দাদার সঙ্গে হাটখোলায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু জ্বর থাকায় দাদা নিয়ে যায়নি। এতটুকু বলেই কাঁপতে কাঁপতে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন তিনি। প্রতিবার জ্ঞান ফিরেই আবার তাকাচ্ছিলেন সেই গর্তের দিকে— চোখে একমাত্র প্রশ্ন, ‘আমার ছেলেটাকে কি আমি আবার জড়িয়ে ধরতে পারব।

 

মাত্র আট সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের চিকন গর্ত দিয়ে শিশু সাজিদ যে কত গভীরে গিয়ে রয়েছে আর কখন সে উদ্ধার হবে এমন আশা-নিরাশার দোলাচলে বুধবার রাত পেরিয়ে বৃহস্পতিবার সারাদিন ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। শিশু সাজিদকে উদ্ধারে তিনটি এক্সকেভেটর পরিত্যক্ত ডিপ টিউবওয়েলটির পশ্চিম পাশেই রাতভর মাটি খননের কাজ করতে থাকে।

 

এরপর সারাদিন টান টান উত্তেজনায় অধীর আগ্রহে ছোট্ট শিশুটির জন্য অপেক্ষা করছিল হাজারো মানুষ। ছোট্ট শিশুটিকে কখন, কীভাবে উদ্ধার করা হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিল তানোরের পাচোন্দর ইউনিয়নের শত শত উৎসুক জনতা। ছোট্ট সাজিদের অপেক্ষায় রাতভর তারা নির্ঘুম কাটিয়েছেন।

 

পাশের গ্রাম থেকে উদ্ধার তৎপরতা দেখতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, শিশু সাজিদ গর্তে পড়ে থাকবে আর আমরা বাড়িতে ঘুমাবো, এটা হতেই পারে না। এজন্য ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে রাতভর আমরাও শিশুটির জন্য জেগে ছিলাম। যাতে ছোট্ট সাজিদ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

 

তিনি বলেন, যে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল সেটি পাশের গ্রামের ওছির আলী নামে এক ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়াই নিজ উদ্যোগে খনন করেছিলেন। পরে সেটিতে পানি না ওঠায় পরিত্যক্ত হয়। তবে সেই গর্ত তিনি পূরণ করেননি। আমরা এমন লোকদের বিচার দাবি করছি।

 

এদিকে দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টায় অন্তত শিশু সাজিদকে উদ্ধারে ৬০ ফুট গভীর পরিখা খনন করা হলেও তার সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুধু তাই নয়; অবহেলার কারণেই পরিত্যক্ত এই অবৈধ গভীর নলকূপের গর্ত ঠিকমতো ভরাট না করা ব্যক্তির ওপরও ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

তারা বলছেন, অনুমোদনহীন ব্যক্তি মালিকানার এসব নলকূপ যত্রতত্র স্থাপন করার কারণেই আজ শিশু সাজিদকে এভাবে হয়তো চলে যেতে হচ্ছে। আর মায়ের চোখের সামনে নিজের নাড়িছেঁড়া ধন নিমিষেই এভাবে পাতালে চলে যাওয়ার বিষয়টিও শিশু সাজিদের মা রুনা বেগমসহ এলাকাবাসী কেউই যেন মেনে নিতে পারছেন না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews