
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক প্রবীণ দম্পতির ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানায় ও ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। হামলায় গুরুতর আহত স্বামী-স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনায় আহতরা হলেন—মো. শাহাজাহান সানা (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. মুনজিলা খাতুন (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আইয়ুব আলীর সঙ্গে শাহাজাহান সানার পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার সালিসি বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় থানা ও ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করার বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিপক্ষ আইয়ুব আলী চরম ক্ষিপ্ত হন। এরই জেরে গত ২১ আগস্ট অতর্কিতভাবে শাহাজাহান সানার বাড়িতে প্রবেশ করে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দম্পতির ওপর চড়াও হন।
স্বজনেরা জানান, হামলায় মো. শাহাজাহান সানার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী মুনজিলা খাতুনের চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে। আঘাতের তীব্রতায় তাঁর একটি চোখ সম্পূর্ণ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে এবং দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিইনি। আইনি সহায়তার জন্য আমরা থানা ও ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসনকে জানানোর অপরাধেই আমাদের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো।”
পরিবার আরও জানায়, এই বর্বরোচিত ঘটনার পর শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।