
আব্দুল গফুর,বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন হেলাল হোসেন (২৪) ও আমেনা খাতুন। তবে এই বিয়েকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বর হেলালসহ তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটিকে সম্পূর্ণ ‘হয়রানিমূলক’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সেলিম বাবুর ছেলে হেলাল হোসেনের সঙ্গে আশাশুনি উপজেলার বসুখালি গ্রামের আশরাফ গাজীর মেয়ে আমেনা খাতুনের প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। গত ২৪ জুন উভয়ের সম্মতিতে ও পরিবারের অজান্তে তারা বাড়ি ছেড়ে যান। পরবর্তীতে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা বর্তমানে সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এই ঘটনার পর মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়েরকৃত ওই মামলায় (নম্বর-০৪/১৫৫) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/১০/৩০ ধারায় হেলাল হোসেনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অপহরণ, শ্লীলতাহানি ও অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, আমেনা ও হেলাল প্রাপ্তবয়স্ক ও পরস্পরের সম্মতিতে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে একসাথে বসবাস করছেন। এই ঘটনার সাথে পরিবারের অন্য সদস্যদের দূরতম কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তাদের জড়ানো হয়েছে। এর ফলে নিরপরাধ স্বজনরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনপূর্বক নিরপরাধ ব্যক্তিদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের স্বজন শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে একটি হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও নিরপরাধদের অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, মামলার বাদী ও তরুণীর বাবা আশরাফ গাজী দাবি করেছেন, তার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আশাশুনি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং বর্তমানে তা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।