
রবিউল ইসলাম, তালা উপজেলা ক্রাইম রিপোর্টার
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) তারক চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং আইন অমান্য করে এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ভূমিসেবা গ্রহীতা ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ বিভিন্ন নাগরিক ও ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারক চন্দ্র মণ্ডল দাপ্তরিক নিয়ম ও শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে নিজ অফিসকক্ষে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আইন অনুযায়ী, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত)’ এর বিধান অনুযায়ী সরকারি অফিস, আদালত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নির্ধারিত। এসব স্থানে প্রকাশ্যে ধূমপান করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের সামনে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত। এতে করে কেবল দাপ্তরিক পরিবেশের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে না, বরং অফিসে উপস্থিত সেবাগ্রহীতারা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক মো. ইকরামুল ইসলাম, শেখ আল আমিন ও অসীম চন্দ্রসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “সরকারি অফিসে যেখানে নাগরিকদের সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে সেবা পাওয়ার কথা, সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ গোটা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।” সাধারণ মানুষ ও সেবাপ্রার্থীরা অবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত নায়েব তারক চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তারক চন্দ্র মণ্ডলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।