
তালা উপজেলা প্রতিনিধি :
গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরই হামলার শিকার হয়েছেন তালা উপজেলার
দোহার (আমড়াডাঙ্গা) গ্রামের এক গরু ব্যবসায়ী। জমিজমা ও পারিবারিক
বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে হত্যার
উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় তাঁর কাছে
থাকা গরু বিক্রির নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায়
আহত ব্যবসায়ীর ছেলে শেখ রিয়াজুল ইসলাম তালা থানায় লিখিত অভিযোগ
করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দোহার (আমড়াডাঙ্গা)
গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মো. গাউছুল শেখ (৪৮) বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর
আনুমানিক আড়াইটার দিকে খর্নিয়া হাটে গরু বিক্রি করেন। পরে গরু বিক্রির
নগদ তিন লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় তিনি বাড়িতে একা
ছিলেন। এ সুযোগে পূর্বের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে একই
গ্রামের মো. আবু খায়ের শেখ (২৮), মো. সিদ্দিক শেখ (৫৫), মো. আয়ুব আলী
শেখ (৫০) ও মো. মশিয়ার শেখ (২৪) দা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার রডসহ বিভিন্ন
দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাউছুল শেখের বাড়িতে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে প্রবেশের পর আবু খায়ের শেখ চাইনিজ কুড়াল
দিয়ে গাউছুল শেখের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেন। আত্মরক্ষার জন্য তিনি মাথা
কিছুটা সরিয়ে নিলে কোপটি তাঁর নাকের ওপর লাগে। এতে নাক ও নাকের হাড়
কেটে গিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
এ সময় সিদ্দিক শেখ ধারালো দা দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে কোপ দিলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাম
চোখের ওপরের কপালে লাগে। এতে ওই স্থান কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আয়ুব আলী শেখ
লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তা ডান চোখের ওপরের কপালে লাগে এবং কপাল ফেটে
যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে মশিয়ার শেখ গাউছুল
শেখের কোমরে থাকা গরু বিক্রির নগদ তিন লাখ টাকা বের করে নিয়ে যান।
গাউছুল শেখের ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় ইদ্রিস আলী শেখ, মোন্তাজ আলী শেখ ও
জাহানারা বেগমসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা আহত গাউছুল
শেখকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার সময় গাউছুল শেখের ছেলে শেখ রিয়াজুল ইসলাম বাড়িতে ছিলেন না। পরে
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে বাবাকে গুরুতর আহত অবস্থায়
দেখতে পান। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পথচারী একটি ইজিবাইকের
সহায়তায় তাঁকে তালা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে
চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে
পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন,
অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।