শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসির ক্রাশ প্রোগ্রাম জোরদার: ১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করলেন প্রশাসক মঞ্জু তালায় গরু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার  অভিযোগ, ৩ লাখ টাকা লুট আশাশুনির চাকলায় ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ কেটে পাইপে লোনাপানি উত্তোলন বন্দের দাবীতে মানববন্ধন আশাশুনির হাড়িভাঙ্গা রহিমা খাতুন স্মৃতি স্পোর্টিং ক্লাব ও পাঠাগারের আংশিক কমিটি গঠন,আহ্বায়ক-সাইফুল্লাহ ঢালী,সদস্য সচিব-তুহিন গাজী সংবেদনশীল ক্যাম্পে বারবার পোস্টিং ও সুন্দরবনের অবৈধ চক্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিতর্কের শীর্ষে এএসআই জামিরুল সাংবাদিক আশিকুর রহমানের বাবার ইন্তেকাল কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার  টাইব্রেকারে হাজিরবাগকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ঝিকরগাছা সদর সাতক্ষীরা তালায় প্রতিবন্ধী শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দিল সাপোর্ট হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন পুলিশের ঘুষ-বাণিজ্য ও গ্রেপ্তারের হুমকি শ্যামনগরে আতঙ্কে গ্রামবাসী, এসপি ও ডিআইজির হস্তক্ষেপ দাবি

সংবেদনশীল ক্যাম্পে বারবার পোস্টিং ও সুন্দরবনের অবৈধ চক্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিতর্কের শীর্ষে এএসআই জামিরুল

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

 

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ পুলিশ সদস্যদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে বারবার পছন্দের ক্যাম্পে পদায়ন এবং সুন্দরবনের সংবেদনশীল অঞ্চলে অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জামিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অত্র এলাকার নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কারবারের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে কনস্টেবল পদে থাকাকালে প্রথম রায়মঙ্গল ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে পোস্টিং পান জামিরুল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যেখানে প্রতিটি পুলিশ সদস্যের দেড় থেকে দুই মাসের বেশি পদায়ন থাকে না, সেখানে তিনি বিশেষ সুবিধায় দীর্ঘ সময় বহাল থাকেন। পরবর্তীতে খুলনা জেলার বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনের পর তার পদায়ন হয় র‍্যাব-৪-এ। সেখানে দুই বছর দায়িত্ব পালন শেষে এএসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে জেলায় ফিরে এসেই পুনরায় রায়মঙ্গল ক্যাম্পে পোস্টিং বাগিয়ে নেন।

পর্যায়ক্রমে কয়রা থানা, জোড়সিং, আংটিহারা ও রায়মঙ্গল ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের পর আবারও নতুন করে তাকে কয়রা থানায় নিয়ে আসা হয়। সব মিলিয়ে তিনি মোট তিনবার গুরুত্বপূর্ণ রায়মঙ্গল ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ পুলিশ সদস্যরা যেখানে পুরো চাকরি জীবনে একবারও এই সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে পদায়ন পান না, সেখানে এএসআই জামিরুল কীভাবে বারবার একই এলাকায় ফিরছেন—তা নিয়ে স্বয়ং পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় হরিণের মাংসের অবৈধ কারবার, অনিয়মতান্ত্রিক মধু সংগ্রহ এবং নিষিদ্ধ অঞ্চলে অসাধু জেলেদের মাছ শিকারের মূল পৃষ্ঠপোষক এই কর্মকর্তা। এসব অবৈধ কারবারিদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কয়রা থানার স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত চক্রের সঙ্গে তার গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এএসআই জামিরুলের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন এবং সেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বারবার পছন্দের সংবেদনশীল স্থানে পোস্টিং নেন। বর্তমানেও তিনি সাংবাদিকদের কাছে দম্ভোক্তি করে বলেন, “আরেকবার রায়মঙ্গল ক্যাম্পে চাকরি করার ইচ্ছা আছে, এখান থেকে তারপর চলে যাব।”

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই জামিরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।”

উপকূলীয় অঞ্চলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ ধরনের অনিয়মে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক পদক্ষেপের জন্য খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews