
বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনা জেলার উপকূলীয় এলাকা কয়রা থানার বিতর্কিত সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাওহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চোরাচালান ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকা জুড়ে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার পরও বহাল তবিয়তে টিকে থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এই কর্মকর্তা। খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের আদেশে তাকে বদলির সিদ্ধান্ত হলেও, তা বাতিল করে কয়রাতেই থেকে যেতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তদবির ও নিজের পক্ষে নিউজ করানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে পরিচিত কয়রায় যত ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে—তার প্রায় সবকটির সাথেই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে এসআই তাওহীদুলের। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এই এলাকায় হরিণের মাংস পাচারকারী চক্র ও আন্তর্জাতিক হরিণ শিকারি ব্ল্যাকমেইলারদের সাথে তার গভীর সখ্য গড়ে উঠেছে। নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসহারার বিনিময়ে তিনি এসব চোরাচালানিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এছাড়া কয়রায় মাদকের বিস্তার ও জিআর (জিটি) মামলায় সাধারণ মানুষকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে নিয়মিত মানুষকে হয়রানি করায় কয়রার সাধারণ জনগণ তার ওপর অতিষ্ঠ।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার বদলির প্রক্রিয়া শুরু হলেও, কয়রায় অবস্থান নিশ্চিত করতে একাধিক অনিবন্ধিত ও ভূঁইফোড় সংবাদ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কয়রা উপজেলায় অপরাধের বিস্তার রোধে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দ্রুত অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার যাতে কোনো সুপারিশে কান না দিয়ে তাকে কয়রা থানা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন—এ জন্য জোর আকুতি জানিয়েছে এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।