
মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত
সপ্তদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপকূলীয় জনপদের অবহেলিত ও ভাগ্যবঞ্চিত মানুষের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলার ‘বাঘ-বিধবা’ নারী এবং তাদের সন্তানদের মানবিক বিপর্যয় রোধে সংসদে তাঁর উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই জননেতা প্রথাগত রাজনৈতিক ভাষণের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রান্তিক মানুষের মৌলিক অধিকারের দাবি তুলে ধরে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন।
সংসদীয় ভাষণে গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরার দক্ষিণ প্রান্তের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন— গাবুরা, পদ্মপুকুর, কৈখালী এবং মুন্সিগঞ্জের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও লোনা পানির সঙ্গে লড়াই করা মানুষের মানবেতর জীবনচিত্র নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন। তিনি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো সেইসব নারীদের প্রতি, যারা সামাজিকভাবে ‘বাঘ-বিধবা’ হিসেবে পরিচিত এবং চরম অবহেলার শিকার।
এমপি গাজী নজরুল ইসলাম সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করেন
১. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিশেষ ভাতা বাঘ-বিধবাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে সম্মানজনক মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা।
২. শিক্ষার অধিকার ও উন্নত পরিবেশ এসব পরিবারের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা আবাসিক হোস্টেলের সুবিধা প্রদান, যাতে তারা প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
৩. টেকসই কর্মসংস্থান উপকূলীয় নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে কুটির শিল্প ও বিকল্প কর্মসংস্থানের বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ।
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় ভাষণের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত (ডিএসডি টিভি)-এর বিশেষ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাধারণ মানুষ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির এই ভূমিকায় অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। তৃণমূলের ভোটারদের মতে, নির্বাচনের পরপরই প্রথম অধিবেশনে এলাকার সবচেয়ে অবহেলিত শ্রেণির কথা সংসদে তোলা একজন ‘প্রকৃত জনসেবকের’ পরিচয়।
শ্যামনগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বে অনেক জনপ্রতিনিধি আসলেও বাঘ-বিধবাদের এই মানবিক সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে এমন বলিষ্ঠ ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আর কেউ দেননি। তাদের মতে, গাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং তিনি একজন মানবিক অভিভাবক হিসেবে নিজের পরিচয় সুসংহত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টেরিয়ান হিসেবে গাজী নজরুল ইসলাম প্রমাণের চেষ্টা করেছেন যে, দলীয় আদর্শের পাশাপাশি জনস্বার্থ ও মানবিক সংকট মোকাবিলাই একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির প্রধান কাজ। উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি ও সামাজিক বৈষম্য নিরসনে তাঁর এই বক্তব্য সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর এই আপসহীন অবস্থান সাতক্ষীরা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে এক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।