
আবুজার গাজী, বিশেষ প্রতিনিধি
নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত শি/শু নি/র্যাতন মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার (লতা)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় তার আত্মীয়ের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১, ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশাল কোম্পানি (সিপিএসসি), নরসিংদীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, সম্প্রতি মাধবদী থানাধীন এক শি/শুর ওপর নি;র্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভাইরাল ভিডিওতে শি/শুটির পায়ে গুরুতর আঘাত করার দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের পর র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্য, ছায়া তদন্ত এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার (লতা) আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদীর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় র্যাব-১১, সিপিএসসির ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেখানে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ফারজানা আক্তার (লতা) নিজের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে আদালতে তার জবানবন্দি বা বিচারিক স্বীকারোক্তির বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি।
র্যাব-১১-এর ক্যাম্প কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, নারী ও শি/শু নি/র্যাতন একটি জঘন্য ও অ/মানবিক অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাব ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করাই র্যাবের অঙ্গীকার।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর মাধবদীতে এক শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শি/শু আইন, ২০১৩ ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।