1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

জাইকা প্রকল্প ঘিরে উত্তপ্ত শ্যামনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, পাল্টা ‘ভূমি দখল ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ

সাহারা সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

সাহারা সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে জাইকা (JICA) অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি চাঁদাবাজির মামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে চেয়ারম্যান এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

মামলা ও পাল্টা অভিযোগে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে কোটি কোটি টাকার এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর-রাদ কর্পোরেশনের আইন কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম এবং তার ছেলে আঃ রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৯ মে রাতে আসামিরা প্রকল্প এলাকায় দলবল নিয়ে চড়াও হন এবং ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে কাজ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় বাধা দিলে প্রকল্পের প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি দামী স্মার্টওয়াচ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহতরা বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাদীর দাবি, পুরো হামলার ঘটনাটি প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে সাইটে থাকা কোটি কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এবং কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

 

চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম একে একটি “সাজানো নাটক” বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ঠিকাদারের অবৈধ ভূমি দখল ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে এই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে জাইকার অর্থায়নে এই প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে সবুজ খান নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত নির্ধারিত স্থানটি ছিল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত একটি বৈধ চিংড়ি মহাল। কোনো প্রকার সমঝোতা বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ওই জমি বালু ভরাট করে দখলে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি বলে মত দেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) মধ্যস্থতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তে কাজ চললেও, আজ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন:

“আমি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করি এবং ২০২৫ সালের মার্চে এলাকাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেই। ঠিকাদার সবুজ খান এলাকায় প্রায় ১৫০-২০০ বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল করেছেন, হাজার হাজার গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করেছেন এবং একটি শ্মশানঘাটও দখল করেছেন। প্রায় ২০০০ বিঘা জমির মৎস্য ও কাঁকড়া চাষের পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এসব অনিয়ম পরিদর্শনে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”

 

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজ শেষ করা না গেলে পুরো উপকূলীয় এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্রের বারবার বাধা ও হুমকির কারণে কোটি কোটি টাকার এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

এদিকে মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকল্পের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের একাংশ। ভুক্তভোগীদের দাবি, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন এবং মানববন্ধনের আয়োজন করবেন।

স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের ছেলে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং এর আগেও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার ভিডিওচিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে এলাকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত