
খুলনা প্রতিনিধি
২৬ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার), খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলার মেডিসিন বিভাগ। স্বজনদের ভিড় আর রোগীদের কষ্টের গোঙানিতে চারপাশটা অন্যরকম ভারী। ঠিক এমন সময় হঠাৎ শোরগোল, “চোর, চোর!” গণপিটুনি বা চুরি যাওয়া মালামাল হারানো আশঙ্কায় মুহূর্তেই পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। তবে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আগেই সেখানে হাজির হন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুই অঙ্গীভূত আনসার সদস্য। তাদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত তৎপরতায় দ্রুত ধরা পড়ে এক মোবাইল চোর। উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটটি।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে।
তখন দুপুর আনুমানিক সোয়া বারোটা। মেডিসিন বিভাগের ১৯/২০ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে এক রোগীর স্বজন অসতর্ক হতেই তার মোবাইলটি পকেটস্থ করে এক চোর ফোনটি নিয়েই দেয় দৌড়। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন আনসার সদস্য অনুপ বাড়ৈ এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম।
পালাবার চেষ্টাকালে চোরের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় এই দুই আনসার সদস্যের। ঝুঁকি নিয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষিপ্রতায় তারা জাপটে ধরেন দৌড়ে পালাতে যাওয়া ঐ ব্যক্তিকে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনটি। আটক ঐ চোরের নাম শাহজামান (৪০)।
আটকের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শাহজামানকে দ্রুত সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে উপযুক্ত প্রমাণ ও যাচাই-বাছাই শেষে মোবাইল ফোনটি তার প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হারানো ফোন ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা। তিনি এবং হাসপাতালে উপস্থিত সাধারণ মানুষ আনসার সদস্যদের এই সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই তৎপরতায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চোর, পকেটমার, ছিনতাইকারী, মলম পার্টির উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এই বাস্তবতায় হাসপাতালসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় রেলস্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনাল এবং বিভিন্ন পশুর হাটে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।