
রিমন হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ এবং মোটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিজিবি সদস্য, কথিত দুই সাংবাদিক ও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকার নিবন্ধিত আইপি টেলিভিশন তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি এর প্রকাশক দ্বীন ইসলাম ও সাংবাদিক মোঃ রনি মিয়া সীমান্ত এলাকায় অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এর পরপরই তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং বিষয়টি মীমাংসার নামে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কথিত দুই সাংবাদিক বিষয়টি সমাধানের কথা বলে তাদের স্থানীয় একটি বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বলা হয় যে মোবাইল ফোন পড়ে যাওয়ার কারণে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকাশক দ্বীন ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং মনগড়া, যার তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক জামশেদ মিয়া ও হারুনুর রশিদ ডালির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ একটি বিওপির কমান্ডারের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় এক চেয়ারম্যানের ভাই, কথিত মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর ও তার সহযোগীরা হামলায় অংশ নেয়। তারা সাংবাদিকদের মারধর করে একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলার পর এখনো মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। চিঠিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের অবাধ প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ঘটনার পর তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি এর প্রকাশক দ্বীন ইসলাম লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।![]()