
বিশেষ প্রতিনিধি,
গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনা হলেও, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও রহস্যজনক চিত্র। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদ চণ্ডিপুর গ্রামের মৃত শহীদ সর্দারের ছেলে ও একাধিক পদধারী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ নুর ইসলাম রনি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে একের পর এক তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের পরও পুলিশ তাকে কেন গ্রেপ্তার করতে পারছে না—তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও শ্যামনগর থানা পুলিশের ভূমিকা এখন চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় জনগণ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ নুর ইসলাম রনি রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখাতে একে একে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন। তিনি বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়ক, শ্যামনগর উপজেলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সহ-সংগঠনিক সম্পাদকের মতো প্রভাবশালী পদবী ব্যবহার করে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য ও নানা অপকর্ম কায়েম করেছিলেন।
স্থানীয়দের বড় প্রশ্ন—৫ই আগস্টের পর দেশের সর্বত্র যেখানে স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান চলছে, সেখানে রনির মতো এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতার নামে এখন পর্যন্ত একটি মামলাও কেন হয়নি? রহস্যজনকভাবে তিনি কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রনি কেবল অধরাই নন, বরং বর্তমানে তিনি একাধিক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে একজন চিহ্নিত পদধারী নেতার এমন অপতৎপরতা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং স্বৈরাচারের এই দোসরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় সচেতন জনতা ও সাধারণ মানুষ শ্যামনগরের বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ মাননীয় সংসদ সদস্যের (এমপি মহোদয়) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যৌথ পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় জনগণ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে নুর ইসলাম রনিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও এলাকাবাসী যৌথভাবে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধনের ডাক দেবেন এবং প্রশাসনের নীতিবাচক ভূমিকার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন। জনমনে স্বস্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার ও শ্যামনগর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জের (ওসি) দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।