1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

আশাশুনিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ,মুখ খুলছে এলাকাবাসী

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের দক্ষিণ গদাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক অনিয়ম, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ এবং নৈতিক স্খলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিজ গ্রামে চাকরির সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেউটিয়া গ্রামের রইস মাস্টারের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন। ক্ষুদ্র মেরামত, স্লিপ প্রজেক্টসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতের সরকারি টাকা সঠিকভাবে ব্যয় না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি নিয়মিত সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না বলেও অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কয়েক বছর আগে কাকবাসিয়া আনুলিয়া ইউনিয়নের মৃত সরু সরদারের মেয়ে সুফিয়া নামের এক নারীর সাথে রফিকুল মাস্টারের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে স্থানীয় জনসাধারণের হাতে আপত্তিকর অবস্থায় তারা ধরা পড়েন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলেও রহস্যজনকভাবে তিনি পার পেয়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই সময় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

 

এলাকাবাসীর দাবি, একজন আদর্শ শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বার বার পার পেয়ে যাওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক গ্রামবাসী জানান, “শিক্ষক যদি চারিত্রিকভাবে কলঙ্কিত হন এবং সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন, তবে শিশুরা কী শিখবে? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা এমন গুরুতর অভিযোগ এখন ওই এলাকার প্রধান আলোচনার বিষয়। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে কি না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত