বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র হস্তান্তর আন্তর্জাতিক যুব দিবসে তালায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাইকেল র‍্যালি খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

‎অভয়নগরে দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত, তবুও বেতন চলছে; কার স্বাক্ষরে হচ্ছে বেতন, জানেন না শিক্ষিকাই! ‎

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি

‎যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভড়াড়া ইউনিয়নের ইছামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কানিজ মুর্শিদা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, বেতনের রিটার্ন শিটে কার স্বাক্ষরে তার বেতন উত্তোলন হচ্ছে সেই বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।

‎বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে এ সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।  স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, উপজেলা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে তিনি এই অনৈতিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

‎বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিলা বৈরাগী ও সুমনা ইয়াসমিন জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কানিজ মুর্শিদা নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। তবুও তিনি সরকারি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, মাঝে মধ্যে এসে তিনি হাজিরা খাতায় একসঙ্গে অনেক দিনের স্বাক্ষর করতেন। বেতনের রিটার্ন শিটে তার নাম থাকলেও সেখানে প্রকৃতপক্ষে কে স্বাক্ষর করেন, সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি।

‎তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, চাকরিতে যোগদানের পর ২০১৭ সাল থেকে ওই শিক্ষিকা স্কুলে না এগিয়েই সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে চলেছেন।

‎পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সমাপ্তি ও তাজমিনকে কানিজ মুর্শিদার ছবি দেখানো হলেও তারা ওই শিক্ষিকাকে চিনতে পারেনি। স্বাধীন নামে আরেক শিক্ষার্থী জানায়, প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় একবার তাকে দেখেছিল, এরপর আর কখনো দেখেনি। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও।

‎ঘটনার দিন প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন বিদ্যালয়ের কাজে জেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান করায় মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিজ মুর্শিদার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে নওয়াপাড়ার বাসায় অবস্থানের কথা বলেন। সেখানে যেতে চাইলে পরে জানান তিনি চট্টগ্রামে আছেন। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “এটা করা ঠিক হয়নি, আমার ভুল হয়েছে।” তিনি আরও জানান, নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বেতনের রিটার্ন শিটে কে স্বাক্ষর করেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

‎উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) এস এম ওয়াহিদুজ্জামান শিক্ষিকা কানিজ মুর্শিদার অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি এই ক্লাস্টারে নতুন এসেছি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

‎উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো ওলিউজ্জামন জানান ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা আমার নজরে আসলে আমি তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। এর থেকে বেশি কিছু জানিনা তবে রবিবার অফিসে গিয়ে জানাতে পারবো।

‎যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) জি এম আলমগীর কবির বলেন, “বিষয়টি জানার পর ৯ জুন আমি ইছামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews