
মুহাম্মদ এমরান ,লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা এলাকায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইসমাইল মেম্বারের পরিবার। তাদের নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার ২৫০টি অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সকাল থেকেই ৮ নং ওয়ার্ডের অসহায় মানুষ নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হতে শুরু করেন। পরে সুশৃঙ্খল পরিবেশে একে একে প্রত্যেক পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
মেম্বারের পরিবারের পক্ষ থেকে জানান, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক কর্তব্যও। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময় দরিদ্র, অসচ্ছল ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছে ইসমাইল মেম্বারের পরিবার। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মানসিকতা থেকেই এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, কিছুদিন আগে ভয়াবহ বন্যা, পাহাড় ধস এবং বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সামান্য এই সহযোগিতাও অনেক পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও এলাকার অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এমন সহযোগিতা তাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায়তা। কঠিন সময়ে কেউ পাশে দাঁড়ালে সেই সহযোগিতার মূল্য অনেক বেশি। তারা ইসমাইল মেম্বারের পরিবারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা এ সময় উপস্থিত থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন। তারা বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি নিজেদের অবস্থান থেকে এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে দারিদ্র্য ও কষ্ট অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ইসমাইল মেম্বারের পরিবারের এই উদ্যোগ কেবল খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। তাদের এ উদ্যোগ অন্যদেরও সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে তারা মনে করেন।
মানবিক এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা অনুপ্রাণিত হয়ে আরও বেশি করে অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসবেন।
ইসমাইল মেম্বার এর ছোট ভাই মোঃ সাহাব উদ্দীন জানান, ২৫০ পরিবারের মাঝে ভিতরণ এর পর’ও যদি কোন অসহায় পরিবার বাদ পড়ে তাহলে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে আবারো খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এবং আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।