
মাদারীপুর হতে নাসির উদ্দিন লিটন,
মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে লিবিয়ায় মানব পাচার ও জিম্মি করে নির্যাতনকারী চক্রের মূলহোতা জুলহাস সরাদারকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে ডিএমপি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে র্যাব-১০ এর সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জুলহাস সরাদার মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার সত্যবতী গ্রামের মৃত্যু মজিদ সরদারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনায় রাজৈর থানার মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের একটি মামলার (মামলা নং- ২৪/২৬ তারিখ: ১২/০৬/২০২৬) প্রধান এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন জুলহাস। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, জুলহাস সরাদার ও তার চক্রের সদস্যরা রাজৈর থানা এলাকার ১৫-২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের বলে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে আপনাদের ইটালিতে পাঠানো হবে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ভুক্তভোগীদের লিবিয়ায় আটকে রেখে চালানো হতো অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এমনকি দেওয়া হতো না কোন খাবারও ভুক্তভোগীদের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে চাবুক দিয়ে আঘাত করে সেই নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ তুলে দেশে থাকা ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে প্রতি পরিবারের নিকট ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হতো। ভুক্তভোগী ও বন্দি থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় এসে এই অভিযোগ জানান।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি জুলহাস সরাদারকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে থাকা পুরো চক্রটিকে ধরতে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।