মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হাড়দ্দহায় ৫৪২ বোতল ফেনসিডিলসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার অস্ট্রেলীয় নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তিনজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড মেঘ জমলেই বিচ্ছিন্ন লামা: বিদ্যুৎহীনতা আর নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে জনদুর্ভোগ চরমে বিশ্বনাথে অলংকারী ইউনিয়ন জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত দেবহাটায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি! চুরি-ডাকাতি ও মাদক কারবারে অতিষ্ঠ জনজীবন, পারুলিয়ার মৎস্যঘেরে ডাকাতি ঠেকাতে গিয়ে মালিককে কুপিয়ে জখম মণিরামপুরে রাজগঞ্জ বাজারে মাংসের দোকানে কুকুরের রাজত্ব, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য। নিষিদ্ধ মৌসুমে সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে চলছে হরিলুট কুড়িগ্রামে উন্নত জাতের হাঁস পালনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ টেকনাফে ২৪ ঘণ্টায় ১৭০ মিমি বৃষ্টি, সারাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড তালায় তিনটি রাস্তা উদ্বোধন করলেন অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ

মেঘ জমলেই বিচ্ছিন্ন লামা: বিদ্যুৎহীনতা আর নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে জনদুর্ভোগ চরমে

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

(বান্দরবান) প্রতিনিধি

 

দেশজুড়ে যখন ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার কথা বলা হচ্ছে, তখন বান্দরবানের লামা উপজেলার লাখো মানুষের কাছে সেই ডিজিটাল সুবিধা এখনো অনেকটাই স্বপ্ন। সামান্য মেঘ জমলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে বন্ধ হয়ে পড়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে জরুরি যোগাযোগ সবকিছুই কার্যত স্থবির হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর ধরে চলমান একটি সমস্যা। আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলেই শুরু হয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট। অনেক সময় বৃষ্টি শুরুর আগেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা কয়েক ঘণ্টা, কখনো কখনো আরও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল টাওয়ারগুলোর কার্যক্ষমতাও কমে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে লামার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় অধিকাংশ মোবাইল টাওয়ারে দীর্ঘ সময় সেবা চালু রাখার মতো পর্যাপ্ত ব্যাকআপ ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার কিছু সময় পরই গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক সংকটে পড়েন। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ক্লাস কিংবা সরকারি অনলাইন সেবা গ্রহণ সবই বাধাগ্রস্ত হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা জানান, ভর্তি আবেদন, চাকরির আবেদন, পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে একটি উপজেলা যদি সামান্য বৈরী আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কহীন হয়ে পড়ে, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ কীভাবে পাবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণের দাবি থাকলেও বাস্তবে লামাবাসী কেন এখনো এমন দুর্ভোগের শিকার এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মোবাইল অপারেটরগুলোর টাওয়ারে পর্যাপ্ত ব্যাকআপ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগকালেও নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সেবা চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় ডিজিটাল বৈষম্যের এই চিত্র আরও প্রকট হবে এবং লামার মানুষ উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়তেই থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে লামা আবাসিক প্রকৌশলীর নাম্বারে কল দিলে রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews