
নজরুল ইসলাম খোকন,টেকনাফ, কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীপথ ব্যবহার করে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে মালিকবিহীন ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারী নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীন হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ সংলগ্ন কেরেঙ্গাঘোনা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় কেরেঙ্গাঘোনা পোস্ট-২ সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক ব্যক্তিকে হাতে একটি পোটলা নিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। টহল দল তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে সে সঙ্গে থাকা কালো কাপড়ে মোড়ানো পোটলাটি ফেলে দ্রুত নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা কালো কাপড়ে মোড়ানো একটি পলিথিনের ভেতর থেকে খাকি রঙের একটি পোটলা উদ্ধার করেন। পোটলাটি খুলে নীল রঙের বায়ুরোধী ছয়টি প্যাকেটে রাখা আনুমানিক ৬০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে আশপাশের এলাকায় আরও তল্লাশি চালিয়েও অন্য কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, সীমান্তকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবির অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময়ই কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে আসছে।