
শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম আক্তার তোয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামীকে পাঁচ লাখ ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদা) সালেহ উজ্জামান এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের (৩২) কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আসামীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এ রায় ঘিরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় জোরদার ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মামলার বিবরনে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন চাকুরীগত কারনে অফিসে থাকায় শিশু তাবাচ্ছুম খেলতে খেলতে আবু তাহেরদের পরিত্যাক্ত বাড়ির সামনে যায়। সেসময় তাহের ঘরের সামনে শিশুটিকে খেলতে দেখে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও পরে নিজের ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়। পরদিন অনেক খোজাখুজির পর পুলিশ তাবাচ্ছুমের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওই দিনই তার পিতা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত নামা আসামী করে মামলা দায়ের করে।
এরপর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু তাহের কে সনাক্ত করে এবং ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ শিকার করে জবানবন্দি দেয়। এরপর গত ২২ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা। পরে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষে আদালত সোমবার আসামীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে অধিকাংশ সময়ই আমরা দেখি রায় হয় কিন্তু তা কার্যকর হয়না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার সন্তান হত্যার রায়টি কার্যকর করা হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যেন কোন কন্যা শিশুকে এমন ঘটনার শিকার হতে না হয়। বাবার কাধে যেন কোন শিশু সন্তানের মৃতদেহ বহন না করতে হয়।
বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আকিদুল ইসলাম এবং সাথে ছিলেন জেলা পিপি এস এম মশিউর রহমান। তারা বলেন, আদালত দৃষ্টান্তমুলক রায় দিয়েছে। আমরা খুশি, ভুক্তভোগী পরিবার ও জেলাবাসীও এ রায়ে খুশি।