
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে দুটি বালুভর্তি কার্গো বোটসহ ৫ জন বালু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর ৬টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ শাহারিয়ার রাজিব, পিএসসি-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল খোলপেটুয়া নদীর তীরে অবস্থিত ঝাঁপার চর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।
আটককৃতরা হলেন— মোঃ ইব্রাহিম গাজী, মোঃ নাঈম ইসলাম, মোঃ আজারুল ইসলাম, মোঃ সজিব শেখ ও মোঃ জাবিরুল ইসলাম। অভিযানকালে ‘এম বি হাবিব’ নামীয় একটি বড় কার্গোসহ দুটি বালুভর্তি বোট জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ‘এম বি হাবিব’ কার্গোটির মালিক চিহ্নিত বালু ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপকূলীয় এই পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিল। এর আগেও একাধিকবার এই চক্রের সদস্যরা প্রশাসনের হাতে আটক হয়ে জরিমানা গুনেছে এবং জেল খেটেছে। কিন্তু জামিনে বা মুক্ত হয়ে বেরিয়ে এসে পুনরায় তারা একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ শাহারিয়ার রাজিব, পিএসসি জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খোলপেটুয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আজ সকালে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে আটক এবং দুটি বালুভর্তি কার্গো বোট জব্দ করা হয়েছে। খোলপেটুয়া নদীর পরিবেশ রক্ষায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিজিবির এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
আইনের ফাঁকফোকর ও স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ:
এদিকে বিজিবির এই সাহসী অভিযানকে সাধুবাদ জানালেও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনের শিথিল ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, একই অপরাধীরা বারবার নদী কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছে। স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযানে নামমাত্র জরিমানা বা স্বল্প মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা অপরাধের তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে আবারও একই নদী থেকে বালি লুটপাটে মেতে ওঠে।
নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দাবি, এই নামমাত্র জরিমানা বা লঘু দণ্ডে স্থানীয় জনগণ মোটেও সন্তুষ্ট নন। বারবার একই অপরাধে যুক্ত থাকা এসব ‘বালুখাদকদের’ বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।