বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র হস্তান্তর আন্তর্জাতিক যুব দিবসে তালায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাইকেল র‍্যালি খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

৩০ বছর ধরে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত, লিজ নিয়েও দখল পাননি ভুক্তভোগী

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ খায়রুল ইসলাম,রংপুর বিভাগীয় প্রধান

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ঘূর্ণিয়া মৌজায় অবস্থিত খাস খতিয়ানভুক্ত ১ নম্বর দাগের ১.৫৯ একর আয়তনের সরকারি জলাশয়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত গোপাল দীঘি নামে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে জলাশয়টি যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত রাজস্ব আদায়ের বাইরে থাকায় সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীঘিটির মোট ১.৫৯ একর জমির মধ্যে প্রায় ৪০ শতক অংশ বাদ দিয়ে চারপাশের প্রায় ১.১৯ একর এলাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জটিলতা বিদ্যমান। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি জলাশয়টির সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত লিজ কার্যক্রম নিশ্চিত না হওয়ায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর যুব উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পুকুরটি লিজ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ঘূর্ণিয়া খাসপুকুরের ক্রমিক নম্বর–৩৫ হিসেবে তালিকাভুক্ত গোপাল দীঘি ২০১৫ সালের ৩ মে পদমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে মোঃ হারিসুল ইসলামের কাছে লিজ দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

 

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

বর্তমান ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচিত মোঃ আবু তাহের অভিযোগ করে বলেন,

“নিয়ম অনুযায়ী লিজ গ্রহণ করে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত জলাশয়ের পূর্ণ দখল বুঝে পাইনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকরভাবে মাছ চাষ পরিচালনা ও উৎপাদিত মাছ উত্তোলন করতে পারিনি। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি লিজের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হয়েছে।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

 

প্রতিপক্ষের বক্তব্য

জানতে চাইলে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়,

“আমরা সরকারের কাছ থেকে পত্তন নিয়ে এই জমি ব্যবহার করছি। সে অনুযায়ী দীঘির চারপাশের অংশ উন্নয়ন ও আবাদ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের দখল অবৈধ নয় বলে আমরা মনে করি।

প্রতিপক্ষ আরো বলেন যে ৪০ শতাংশ অবশিষ্ট জমি পুকুরে রয়েছে সেটাও আমরাই আবাদ করি, অথচ পত্তন বাতিল হওয়ার পরেও

পুকুরটির ১,৫৯ একর খাস খতিয়ানভুক্ত পুরো জমিটাই জবরদখল করে রয়েছে প্রতিপক্ষ

 

তবে প্রতিপক্ষ তাদের দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করেননি।

 

এলাকাবাসীর মতামত

স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সুষ্ঠু লিজ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত না হলে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে প্রকৃত লিজগ্রহীতারাও ক্ষতির মুখে পড়বেন।

 

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি অফিস ও উপজেলা কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews