
পাবনা জেলা প্রতিনিধিঃ
পাবনা জেলার সদর উপজেলাধীন ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছাঃ রিয়া খাতুন (১৫) এর মৃতদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় পাওয়া বুধবার সকালে। রিয়া খাতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পাবনা জেলা পুলিশের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টিম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাঈম, ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিক।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোছাঃ রিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের নাঈমের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক চলমান ছিল। গতকাল মঙ্গলবার(২রা জুন ২০২৬) সকালে নাঈমের বাড়িতে গেলে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে নাঈম রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।
রিয়া খাতুনকে হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে মৃতদেহ গোপন করতে ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিক এর সহযোগিতায় ও সহায়তায় রিয়ার মরদেহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে দেয়।
ঘটনার পর পাবনার পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় সদর থানা পুলিশ, ডিবি ও ডিএসবির সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যা কান্ডের সাথে লাশ গোপনের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশের বিশেষ টিম।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, ঘটনার পর থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে সদর থানা পুলিশ।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া খাতুন হত্যা নিয়ে কথা হয় পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও পরিবেশ সম্প্রীতি মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রিনপিস বাংলা, পাবনা জেলা শাখা, পাবনার সভাপতি বিশিষ্ট কবি ও আইনজীবী এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ এর সাথে। তিনি বলেন, দেশের অবস্থা খুবই নাজুক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষ আজ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুতীক্ষ্ণ নজরদারি বাড়াতে হবে যাতে করে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায়। পাঁচ আগষ্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে মানবিক বিপর্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। কবি অ্যাডভোকেট এস এম আকাশ আরো বলেন, পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, একজন অভিভাবকের উচিত তার সন্তান কোথায় যায়, কি করে, কার কার সাথে মেলামেশা করে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পারিবারিক শিক্ষাই মুল বুনিয়াদ। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়েও মানবাধিকারের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ।
তিনি আশা করেন নির্বিচারে হাজার হাজার অভিযুক্ত আসামীরা কারা অন্তরীণ রয়েছেন। হাজার হাজার আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক নির্বিচারে আটক আছেন। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও আশংকা প্রকাশ করে তাদেরকে মুক্তির উদাত্ত আহ্বান জানান সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি।