
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা ইউনিয়নের কয়ারবিল এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়ি চালকরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কয়ারবিলের ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে এই ব্রিজ দিয়ে। ব্রিজটির ভাঙা অংশে কোনো রকমে বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ ও মাটি ভরা বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও সেটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সামান্য অসাবধানতা কিংবা ভারী যানবাহনের চাপেই যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সঙ্গে সীমান্তবর্তী কলারোয়া উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, ট্রাক, ইজিবাইক, ভ্যান, ছোট যানবাহনসহ বিভিন্ন পরিবহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও এই সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু ব্রিজটির বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান, মাছ, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে তাদের ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক সময় ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়ছে।
এদিকে সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে ব্রিজটির অবশিষ্ট অংশও ধসে পড়তে পারে। তখন পুরো এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন সবকিছুতেই এই ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে বায়ারবিল ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুনভাবে নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেন।