1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

ন্যায়বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সাংবাদিক মোস্তাফিজুর সংসার ভাঙতে ‘মাস্টারমাইন্ড’ চক্রের হীন চক্রান্ত ও হামলার অভিযোগ

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

 

পেশাগত জীবনে যিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, আজ তিনিই নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার চেয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সাতক্ষীরায় কর্মরত সংবাদকর্মী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাড়ে পাঁচ বছরের সাজানো সংসার ভাঙতে সুনিপুণ ব্ল্যাকমেইলিং, চক্রান্ত ও নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু অবরুদ্ধ করে মারধরই নয়, তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম নষ্ট করতে এবং পরিবারকে ধ্বংস করতে নানামুখী হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর ন্যায়বিচারের আশায় এখন ঘুরছেন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের দ্বারে দ্বারে।

ভুক্তভোগী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় দৈনিক ‘সরেজমিন বার্তা’ এবং ‘মানবাধিকার প্রতিদিন’ পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার কাটিয়া আমতলার ‘গ্ল্যামার বিউটি পার্লার’-এর স্বত্বাধিকারী মোসাম্মাৎ মুন্নী রহমানের সাথে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মোস্তাফিজুর রহমানের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে বিগত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে তারা আগের ঘরের এক শিশু সন্তানসহ অত্যন্ত সুখে-শান্তিতে সংসার পরিচালনা করে আসছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মুন্নী রহমানের সাবেক স্বামী আরিফুর রহমান জেমস এবং কুষ্টিয়া সদরে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পলাতক থাকা একাধিক মামলার আসামি আনিস বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি এই সংসার ভাঙার মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মাঠে নামে। সাংবাদিক মোস্তাফিজুরের পেশাগত ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে জেমস ও আনিস বিশ্বাস তার স্ত্রীর সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াতে থাকে। একপর্যায়ে উভয়ের মোবাইল নম্বর ব্লক করিয়ে দিয়ে চরম মানসিক দূরত্ব তৈরি করা হয় এবং এই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ফাঁদে ফেলে গত সপ্তাহে মুন্নী রহমানকে দিয়ে একটি তালাকনামা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠাতে বাধ্য করা হয়, যা এখনো ভুক্তভোগী স্বামী গ্রহণ করেননি।

গত ২০ মে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান কাটিয়া আমতলা সদরের গ্ল্যামার বিউটি পার্লারে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও মালামাল আনতে যান। তিনি সেখানে পৌঁছামাত্রই মুন্নী রহমান গোপনে সাবেক স্বামী জেমসকে ডেকে আনেন। জেমস পার্লারের ভেতরে প্রবেশ করেই স্ত্রী মুন্নী, কন্যা জেমি এবং পার্লারের কর্মচারী মেরীর সামনেই সাংবাদিক মোস্তাফিজুরের ওপর দুই দফায় নৃশংস হামলা চালায়। শুধু তাই নয়, তার ব্যবহৃত পোশাক ও জিনিসপত্র ঘরের বাইরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মালামাল পরিবহনের ভ্যানচালকসহ স্থানীয় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

 

লিখিত অভিযোগে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, বর্তমান স্ত্রী মুন্নী রহমান তার নিজস্ব লোকবল দিয়ে মোস্তাফিজুরের একমাত্র কন্যাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের জঘন্য হুমকি প্রদানসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, যার কল রেকর্ড ভুক্তভোগীর নিকট সংরক্ষিত আছে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে এই সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, যেখানে ঘটনার সত্যতা ও মোস্তাফিজুর রহমানের নিরপরাধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

 

“সাংবাদিক হয়ে বিচার না পেলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”

পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এই গণমাধ্যমকর্মী এখনো তার ভাঙন ধরা সংসারটি টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী হলেও, অপরাধী চক্রের অব্যাহত হুমকির মুখে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ন্যায়বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকা এই সাংবাদিক আক্ষেপ করে বলেন,

“বিগত সাড়ে পাঁচ বছরে স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানকে নিজের করে নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে সংসার করেছি। এই সময়ে আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে এবং আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে জীবন থেকে ৫টি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে যদি আমি দেশে ন্যায়বিচার না পাই, তবে সাধারণ নাগরিকরা কীভাবে বিচার পাবে? চক্রান্তকারীরা ও মাস্টারমাইন্ড চক্র আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত জনপ্রিয়তাকে ধূলিসাৎ করতে আমাকে বারবার মিথ্যা জালে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”

 

এই ঘটনায় বিশ্বাসঘাতকতা, মারধর ও হুমকির অভিযোগে মুন্নী রহমান, আরিফুর রহমান জেমস এবং মূল পরিকল্পনাকারী আনিস বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে মাননীয় পুলিশ সুপার, মাননীয় জেলা প্রশাসকসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফাঁস হওয়া অডিও-ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত