বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র হস্তান্তর আন্তর্জাতিক যুব দিবসে তালায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাইকেল র‍্যালি খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

মসজিদে তালা ফরিদপুরের দিঘুলিয়ায় তীব্র ক্ষোভ, ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকের দাবি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

ছাবেদুল সরকার-পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সেনদিঘুলিয়া মৌজায় অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন দিঘুলীয়া ঈদগাহ জামে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ, উত্তেজনা ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তি আক্রোশ ও অন্যের প্ররোচনায় মসজিদের প্রধান ফটকে তালা লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী। তারা এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বাটোয়ারা মামলাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি মসজিদের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলায় নালিশী সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখিত জমির ওপরই মসজিদটি নির্মিত। তবে একই সম্পত্তির আওতাভুক্ত বসতঘর ও অন্যান্য স্থাপনা খোলা থাকলেও শুধুমাত্র মসজিদে তালা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সেনদিঘুলিয়া মৌজার আরএস খতিয়ান নং ৯০৯ এবং আরএস দাগ নং ৩৫২৯, ৩৫৩০, ৩৫৩১সহ আরও কয়েকটি দাগ নিয়ে মোট ৫.৪০ একর জমির ওপর বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে শহিদুল্লাহ গং-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই খতিয়ানের অধিকাংশ জমি পূর্বেই বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে দলিলমূলে বিক্রি ও হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে ক্রয়কারী ব্যক্তিরা নামজারি সম্পন্ন করে জমি নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাদীপক্ষ জেনেশুনেই পূর্বে বিক্রিত ও হস্তান্তরিত সম্পত্তিকে মামলার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাদের ভাষ্য, এটি মূলত হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যাতে জমির বর্তমান ভোগদখলকারীরা সমস্যায় পড়েন। একই সঙ্গে মামলায় মসজিদের অস্তিত্ব উল্লেখ না করে শুধুমাত্র “পতিত জমি” হিসেবে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আল্লাহর ইবাদতের স্থান মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি মামলার কারণেই তালা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে একই সম্পত্তিতে থাকা অন্যান্য স্থাপনাতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। শুধুমাত্র মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করা ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে আঘাত করেছে।”

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী, মুসল্লি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত মসজিদের তালা খুলে ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews