1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

খেয়াঘাটে প্রসববেদনায় ছটফট করছিলেন মা, নিজের গাড়িতে হাসপাতালে পাঠিয়ে জীবন বাঁচালেন ড. মনিরুজ্জামান

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

সুন্দরবন উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আবারও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব ড. মোঃ মনিরুজ্জামান। তীব্র প্রসববেদনায় ছটফট করা এক অসহায় প্রসূতি মাকে নিজের ব্যবহৃত গাড়িতে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আসা এক প্রসূতি মা তীব্র প্রসববেদনা নিয়ে নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌঁছান। দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় ওই সময় হাসপাতালে যাওয়ার জন্য জরুরি কোনো যানবাহন না পেয়ে চরম দিশেহারা ও অসহায় হয়ে পড়েন প্রসূতির পরিবারের সদস্যরা।

ঠিক সেই মুহূর্তে দৈববশত নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় উপস্থিত হন ড. মোঃ মনিরুজ্জামান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং প্রসূতি মায়ের আকুলতা দেখে তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ব্যবহৃত গাড়িটি ওই প্রসূতি মা ও তার পরিবারের জন্য ছেড়ে দেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

শুধু গাড়ি দিয়েই ক্ষান্ত হননি ড. মনিরুজ্জামান; তিনি চলন্ত গাড়ি থেকেই শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমানকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবহিত করেন এবং জরুরি চিকিৎসার প্রস্তুতি রাখার অনুরোধ জানান।

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ড. মনিরুজ্জামানের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে প্রসূতি মাকে শ্যামনগর হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়। খবর পেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা রোগীকে দ্রুত ডেলিভারি ওয়ার্ডে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই প্রসূতি মা একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। চিকিৎসকেরা স্পষ্টভাবে বলেন, “রোগীকে একদম সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। দুর্গম পথ আর যানবাহনের সংকটে যদি আর কিছুটা বিলম্ব হতো, তবে মা ও শিশু উভয়েরই বড় ধরনের জীবনহানি বা ক্ষতি হতে পারত। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় শিশুটি প্রায় হাঁপিয়ে উঠেছিল।”

এদিকে সময়োচিত এই মানবিক সহায়তায় প্রসূতি মায়ের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অশ্রুসজল চোখে প্রসূতির পরিবারের এক সদস্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ঠিক সময়ে ড. মনিরুজ্জামান ভাই সহযোগিতা না করলে হয়তো আমরা বড় ধরনের বিপদে পড়তাম। তিনি দেবদূতের মতো এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। উনার এই ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না।”

এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এটিই চিরন্তন সত্য। একজন অসহায় মানুষের চরম বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আমি কেবল আমার সামর্থ্যের মধ্য থেকে সেই দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা করেছি। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে শুনে আমার খুব ভালো লাগছে।”

উজান-ভাটির এই উপকূলীয় অঞ্চলের সচেতন মহলের মতে, শ্যামনগরসহ সমগ্র সাতক্ষীরার উপকূলীয় দুর্গম এলাকায় জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগ ও যানবাহন সংকট একটি দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে ড. মনিরুজ্জামানের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও নিঃস্বার্থ মানবিক আচরণ শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, বরং সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই ঘটনার পর থেকে ড. মনিরুজ্জামান শ্যামনগর, সাতক্ষীরাসহ গোটা উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় ও প্রশংসায় ভাসছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি এভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগে এগিয়ে আসেন, তবে উপকূলের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই সহজ ও নিরাপদ হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত